কলাপাড়ায় এ.জে ইলেক্টোনিক্স’র শো-রুম উদ্ধোধন ।।

কলাপাড়া প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এ.জে ইলেক্টোনিক্স’র শো-রুম উদ্ধোধন করা হয়েছে। বুধবার বিকালে কলাপাড়া পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় এম এম প্লাজা’র নিচ তলায় এ শো-রুমের উদ্ধোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া পৌর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম, এ.জে ইলেক্টোনিক্স’র সত্ত¡াধিকারী মো.জাহিদ খান, এম এম প্লাজা’র মালিক মোজাম্মেল হক মুন্সি, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বিপু, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি এস কে রঞ্জন, আনন্দ টিভির কলাপাড়া কুয়াকাটা প্রতিনিধি সুজন মৃধা, দৈনিক আমার সংবাদ কলাপাড়া প্রতিনিধি মো. ওমর ফারুক, দৈনিক জনতা পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি মো.আরিফ সিকদার, ব্যবসায়ী সুমন মল্লিক, খালেক মোল্লা প্রমুখ।

তালতলীতে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলবাসির অদৃশ্য ভালোবাসায় পাখিদের একটি অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে

জুলহাস(স্টাফ রিপোর্টার)গ্রামবাসীর অদৃশ্য ভালোবাসায় পাখিদের একটি অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রাম।

প্রতি বছর এখানে ছুটে আসে হাজার হাজার সাদা বক ও কালো পারকৌড়ি। এখানে ছয় মাস অবস্থান করে চলে যায় অজানার উদ্দেশ্যে। স্থাণীয় সূত্রে জানাগেছে, প্রতিবছর আষাঢ়ের প্রথম দিকে ধারাবাহিকভাবে গত ৪/৫ বছর ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা বক উড়ে এসে উপজেলার লাউপাড়ার গ্রামের ফোরকান ও আলকাছ ফরাজীর বাড়ীর বাগানের বিভিন্ন গাছে বাসা বাঁধে। এখানে পাখিগুলো ৬ মাস অবস্থান করে বাচ্চা ফোটায়।

সার্বক্ষণিক পাখিগুলোর দিকে নজর রাখছেন গ্রামবাসী। বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা বক ও তাদের ছানাগুলোকে মাঝে মাঝে খেতে দেয়। ছোট্ট ছানাগুলো বাসা থেকে পড়ে গেলে সেগুলো বাড়ীর মালিক আবার বাসায় তুলে দেয়। পাখিগুলো মালিকের অদৃশ্য ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে আষাঢ়ের প্রথম দিকে এখানে ছুটে আসে। ছানাগুলো বড় হয়ে উঠলে আবার অজানার উদ্দেশ্যে চলে যায়। তবে এবার শুধু সাদা বক নয়, সাদা বকের সাথে দেখা যাচ্ছে কালো রংয়ের পানকৌড়ি। শুরুতে পাশাপাশি দুই তিন বাড়ীর গাছপালায় এগুলো বাসা বাঁধে। এরপর থেকে সংখ্যাটা শুধু বাড়তেই থাকে। সাদা আর কালো রঙের পাখিতে ঢেকে থাকে গাছের ডালপালা। পাখির বিষ্ঠায় সাদা হয়ে থাকে বাগান, বসত বাড়ির চাল ও উঠান। সকাল হলে খাবারের সন্ধানে ছুটে যায় পাখিগুলো। খাবার সংগ্রহ করে আবার সন্ধ্যার পূর্বেই ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে আসে। পাখিগুলোর কলকাকলী ও কিচিনমিচিন শব্দে এখানে অন্য রকম একটি পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এসব পাখির ঝাঁক দেখতে দ‚র-দ‚রান্ত থেকে আসছেন বহু পাখিপ্রেমী মানুষ। স্থাণীয় ফোরকান ফরাজী জানান, তাঁদের বাড়ীর বাগানের গাছেই প্রথম বাসা বাধে হাজার হাজার সাদা বক। গত ৪/৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সাদা বক ও কালো পানকৌড়ি আমাদের বাড়ীর বিভিন্ন গাছে বাসা বেঁধে থাকতে শুরু করে। আমাদের বাড়ী থেকেই প্রথম শুরু হয়েছিল পাখিগুলোর আতিথেয়তা। তিনি আরো বলেন, আমাদের গ্রামের আশপাশে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি বদ্ধ ছোট খাল ও বিল রয়েছে। আষাঢ় মাসের শুরুতেই এসব খাল ও বিলে বর্ষার পানি জমতে শুরু করলেই এই বক আর পানকৌড়িগুলো আসতে শুরু করে। নদী ও বিল থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এরপর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উঠলে অন্যত্র চলে যায়।

আলকাছ ফরাজী জানান, পাখিগুলো ভালোবাসা বোঝে তাই বারবার এখানে ফিরে আসে। আমরাও পাখিদের ভালোবাসায় মুগ্ধ। গাছে গাছে বাসা বেঁধে ছয় মাসের মতো পাখিগুলো এখানে থেকে ডিম দেয়, বাচ্চা ফোঁটায়। পাখির বিষ্ঠা/ মল ও উচ্ছিষ্ট খাবারে বাড়িঘর নষ্ট হয়ে যায়। দুর্গন্ধে মাঝে মাঝে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি তবুও পাখিগুলোর জন্য মায়া লাগে। তাই তাদের তাড়াই না বরং শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে দিন- রাত পাহারা দিয়ে রাখি।

লাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, পাখি ও প্রকৃতি আমাদের জীবনেরই একটি অংশ। আমি যতটুকু জানি প্রতি বছরের ন্যায় লাউপাড়াতে বিভিন্ন পাখি আশ্রয় নিয়ে থাকে। নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্তে¡ও পাখিগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তিনি গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জীববৈচিত্র রক্ষায় এ গ্রামের মানুষের মতো সবাইকে পাখির প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

কুয়াকাটায় মোসারেফ মোল্লার গ্রেফতারের দাবিতে মহিপুরে মানব বন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।।

মেহেদী হাসান সুমন, মহিপুর থানা প্রতিনিধি

মুঠোফোনে সাংবাদিকদের নোংরা ভাষায় গালাগালি ও হুমকির ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায়, কুয়াকাটার পৌর মেয়র ও লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছোটভাই, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহম্মদ ভূঁইয়ার হাত কাটা মামলার অন্যতম ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি মাদক সেবি ও ভূমি দস্যু মোশারেফ মোল্লার গ্রেফতারের দাবিতে আজ শনিবার সকাল ১১ টায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মহিপুর প্রেসক্লাব ও সাধারণ জনগনের উদ্দোগে মহিপুর শেখ রাসেল সেতুর উপরে প্রায় শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে মানব বন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসিরুদ্দিন বিপ্লব, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদ, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বিপু, থানা আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হাওলাদার , মহিপুর থানা শ্রমিক লীগের সাবেক আহবায়ক সোহাগ আকন, মহিপুর থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি কালাম ফরাজি, মহিপুর সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আরিফ মাহামুদ সুমন, মহিপুর সদর ইউনিয়নের শ্রমিকলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সুমন, মহিপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান সবুজ ভূইয়া সহ শতাধীক নেতা কর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ।

এসময় বক্তারা মাদক সেবি ও ভূমিদস্যু মোশারেফ মোল্লাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে থানা পুলিশ কে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান।

বাংলার বুকে সত্যিকারে বীর সাংবাদিকরাই,বার মাস কাজ করে বেতন-ভাতা ছাড়া।।

মোঃ শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি।।
বৈশ্বিক এই মহামারিতে সরকারের বরাদ্দ আছে অনেক এর জন্য।কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য কোন ধরণের কোন বরাদ্দ নেই। সব ধরণের পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদের পেছনে ছুটতে হয় সংবাদকর্মী তথা সাংবাদিকদের।আর করোনার মতো মহামারির সময়েও থেমে থাকার ও কোন উপায় নেই সংবাদকর্মীদের।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করায় বাংলাদেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা ও সচেতনমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সরকারের পাশাপাশি সব সময় মাঠে থেকে কাজ করছেন দেশের সংবাদকর্মীরা।

ইতিমধ্যে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।সব কিছু বন্ধ থাকলেও সংবাদকর্মীরা কিন্তু মাঠে কাজ ঠিকিই করে যাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।তাদের নেই কোন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক সরঞ্জাম।

গ্লাভস কিনতে হয়, মাস্ক কিনতে, পি, পি কিনতে হয় আবার সবকিছুই নিজের পকেট থেকে কেনা লাগে বাহ্! এরপরেও কাজ করছেন সাংবাদিকগণ যারা দেশবাসীকে বিশ্বাসের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি মুহূর্তে।করোনা প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন শুধু সাংবাদিকরাই অথচ সাংবাদিকদের কথা তুলে ধরার মতো কোন লোকই নেই এই গণতান্ত্রিক স্বাধীন রাষ্ট্রে।

শহরের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের গৃহবন্দির কথা, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা, তাদের জীবন জীবিকার কথা,হাজারও সমস্যার কথা প্রতিনিয়ত তুলে ধরছেন সংবাদকর্মীরা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্মম সত্যকে প্রকাশ করতে ভীত হচ্ছেন না তারা।দেশের এমন পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মীর পরিবার আছে, সংবাদকর্মীর সংসার আছে, সংবাদকর্মীর ভাত খেতে হয়।বড় আফসোস! আমাদের নিয়ে করার এদেশে কেউ নেই।

করোনা পরিস্থিতিতে গরীব মধ্যবিত্তদের মতো তাদেরও আয়ের পথ বন্ধ রয়েছে।তাদের আর্থিক সহযোগীতা সহ বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা আমাদের দেশের নীতি নির্ধারকদের কি একবারও ভাবা উচিত নয়? করোনা ভাইরাস বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। যার ব্যাপকতা বাংলাদেশকে ও আক্রান্ত করেছে।

করোনা ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ পর্যন্ত আবিষ্কার এখনো হয়নি। সামাজিক সচেতনতাই এই ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র স্বীকৃত পন্থা হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে শুরু থেকে।এই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাংবাদিকরা সব থেকে বেশি অবদান রাখছেন।এই ক্রান্তিকালে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে মানুষকে অবহিত করছেন প্রতিটি ক্ষণে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তারা একবার হিসাব মিলিয়ে দেখেন।তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও তাদের’কে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করা রাষ্ট্রের জন্য একান্ত আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আমি মনে করি।

সাংবাদিকরাও মানুষ,আমাদের আপনাদের মতো জীবন আছে, পরিবার পরিজন আছে।শুধু আমরা প্রকৃত সাংবাদিকরা মৃত্যুভয়ে ভীত নই। সৎ পথে থেকে সততার সঙ্গে জীবনযাপন করছি। অঢেল ধন-দৌলতের প্রয়োজন নেই আমাদের,তবে ন্যূনতম সম্মানীর ব্যবস্থা করা হোক আমাদের জন্য এটা সংবাদকর্মীদের পক্ষ হয়ে আমার একান্ত দাবী।

উল্লেখ্য যে,ডাক্তারি মহান পেশা কিন্তু ডাক্তার রোগী দেখতে টাকা নেয়,শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর কিন্তু পড়াতে গেলে টাকা নেয়, মসজিদের ইমাম কোরআন পড়াতে টাকা নেয়, প্রশাসন রাষ্ট্রের শান্তি বাহিনী দায়িত্ব পালন করলে টাকা নেয়।হ্যাঁলো- মাননীয়’রা আপনাদের বলছি, তাহলে সাংবাদিকদের বেলায় কেন এত অবহেলা করা হচ্ছে?

বড় কষ্ট হয় প্রশাসনের কিছু বাবুরা যখন আমাদের সাথে বাজে আচারণ করে।কেননা এই করোনা মহামারিতে তারা একসাথে সবাই জটলা ধরে বসে থেকে যখন প্রেস লেখা দেখে সাংবাদিকদের বাইক থামিয়ে সামাজিক দূরত্ব শিখায়।আরে ভাই আমরা সমাজিক দূরত্ব বুঝি আমাদের আপনার মতো জীবন আছে কিন্তু আমাদের মতো ত্যাগ করার ক্ষমতা আপনার নেই।

কেননা সরকার যদি বলে,আপনাকে দুই/এক মাসের বেতন দেয়া হবেনা তাহলেই তো আপনি চাকুরী ছেড়ে চলে যাবেন।আর আমরা সংবাদিকরা বেতন-ভাতা ছাড়াই বার মাস চলি আর শুধু আপনাদের মতো বাবুদের সংবাদ প্রকাশ করি আমরা না থাকলে আপনি কত বড় বাবু তা কেউ জানতো না। মাথায় রাখবেন আমরাও কিন্তু মানুষ।

যাইহোক,সাংবাদিকরা জীবন বাজি রেখে সংবাদ দেয় বলেই তো জনগণ সারা বিশ্বের খবরা-খবর মুহূর্তেই জানতে পারে। তাই আমি জাতির এই ক্লান্তি লগ্নে একজন সংবাদকর্মী/সাংবাদিক হিসাবে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি এই বৈশ্বিক মহামারিতে মাঠে থাকা সংবাদকর্মী/সাংবাদিকদের জন্য যেনো কোন বরাদ্দ দেয়া হয়।

পটুয়াখালী সাংবাদিক সহ পুলিশের উপর হামলা।।

জসিম উদ্দিন আহম্মেদ, গলাচিপা প্রতিনিধি।।
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর এলাকার ৭/৮টি ছেলে গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের কাটাখালী বাজার থেকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই ইউনিয়নের শহিদুল মোল্লার ছেলে জাহিদকে তুলে আনার চেষ্টা করে। এসময় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রিয়াজ খলিফা তাদেরকে স্থানীয় আওয়ামীলীগ অফিসে আটকে মারধর করে।

খবর পেয়ে আনুমানিক রাত ৭.০০ টায় গলাচিপা থানার এস আই শহিদুল সংগীয় ফোর্স নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে যায় এবং সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বল্লে এতে পুলিশের সাথে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রিয়াজ খলিফার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। 
রিয়াজ খলিফা পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং এস আই শহিদুল ও তার সাথে থাকা কনস্টেবলকে রিয়াজ দলবল নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।

পরে খবর পেয়ে গলাচিপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মনিরুল ইসলাম সহ পুলিশের একটি টিম পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করতে গেলে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ খলিফার নেতৃত্বে পুলিশের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় এবং পুলিশের পিকিআপ ভাংচুর করে।
সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে রিয়াজ খলিফার সন্ত্রাসী বাহিনী সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে মাই টিভির উপজেলা প্রতিনিধি হাসান এলাহী ও এশিয়ান টিভির উপজেলা প্রতিনিধি সহ পুলিশের সাতজন আহত হয়। ঘটনা স্থাল থেকে রিয়াজ খলিফা সহ চারজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হল মোঃ রিয়াজ খলিফা (৩৫) পিতাঃ আলম খলিফা, মোঃ খোকন (২২) পিতাঃ নাসির প্যাদা, শাহরিয়ার সিফাত (২৫) পিতাঃ জসিম উদ্দিন, আঃ রশিদ খাঁ (৫৫) পিতাঃ মৃত লাল খাঁ।স্থানীয় সুত্রে জানাযায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রিয়াজ খলিফা চাঁদাবাজি, ইপটেজিং, জুয়ার বোড সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ
করে আসছে গলাচিপা থানার পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেন।

গলাচিপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাকিদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মাই টিভির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বরগুনায় কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ।।

জুলহাস স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাইটিভির ১১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বরগুনার অর্ধশতাধিক কর্মহীন অসহায়, দুস্থ ও গরীব পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন বরগুনা দক্ষিন প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান অন্তুু।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে বরগুনা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বসে খাবারগুলো বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নিউজটোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের বরগুনা জেলা প্রতিনিধি সুমন সিকদার, বাংলানিউজের প্রতিনিধি মীর জামাল, ঢাকা প্রতিদিনের সাইফুল ইসলাম রাফিন, সাংবাদিক সাইফুর রহমান সজীব,দৈনিক আজকের বসুন্ধরার সাইফুল ইসলাম জুলহাস, বিটিভির ক্যামেরাম্যান ইব্রাহীম,দৈনিক সুন্দরবনের কাশেম, দৈনিক বরিশাল সমাচার এর আসাদুল হক সবুজ, টিম টোয়েন্টিফোরের জহির রায়হান, বাংলার সময়ের গোলাম রাব্বী, এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান শাহ-জালাল প্রমুখ।

সাংবাদিকতা পেশায় যুক্তদের সুরক্ষার জন্য সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো আইন তৈরি হয়নি ।

আবু জাফর সূর্য

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে অনিশ্চিত । এখন পর্যন্ত এই পেশায় যুক্তদের সুরক্ষার জন্য সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো আইন তৈরি হয়নি । রাষ্ট্র সংবাদ শিল্পের মালিকদের যতটা স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসে ঠিক ততোটা সাংবাদিকদের জন্য এগিয়ে আসে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমার কখনো মনে হয়নি । দৈনিক পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থায় ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ এবং বিদ্যমান শ্রম আইন কার্যকর থাকলেও নানা অজুহাতে অনৈতিক কৌশলে মালিক পক্ষ কর্মরতদের বঞ্চিত করে । এ অপকর্মে অনেক সময় মালিক পক্ষ উচ্চ পদবীর সাংবাদিক ও কতিপয় সাংবাদিক নেতাদের সাহায্য নিয়ে থাকেন । অন্যদিকে বিকাশমান ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মরতদের জন্য কোনো ধরনের চাকুরি বিধি নেই । শ্রম আইন অনুযায়ী টেলিভিশনে কর্মরতদের কিছুটা আইনি সুরক্ষার ধারা উল্লেখ থাকলেও মালিক পক্ষ কোনো ভাবেই মানার চেষ্টা করেছেন বলে আমার চোখে পড়েনি। আত্মসমালোচনা করেই বলতে চাই ডিইউজের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে এ দায় অনেকটা আমার ওপরেও বর্তায়। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দলকানা ও রাজনৈতিক মতাদর্শগত লেজুড়বৃত্তি পরিত্যাগ করা ছাড়া বিকল্প আছে বলে আমি মনে করি না । বলতে চাই অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মী পেশাগত জীবনে কোনো অর্থেই ভালো নেই । জেলা পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মিদের অবস্থা আরও খারাপ । তাদের নিয়োগ ,বেতন ভাতা ও দায়িত্ব নিয়ে আর একটা লেখা লিখবো ।

যাই হোক, আমার কাছে যতটা জানা আছে ঢাকায় পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শতকরা বিশ পার্সেন্ট গড়পড়তা বেকার থাকেন । মূলধারার দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও বাবা মাসহ ঢাকা শহরে জীবন যাপন অসম্ভব । উপরন্তু ওই প্রতিষ্ঠান সমূহ নিয়মিত বেতন ভাতা দেয় না । কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় সাত মাসের বেতনও বাকি। দু একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানি যেখানে সাত বছরে সাত পয়সাও বেতন বৃদ্ধি পায়নি । এমন অবস্থা রয়েছে পেশাগত অধিকারের কথা বললেই বিনা বাক্যে চাকুরি নাই । চাকুরি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে মালিক পক্ষ আইন সিদ্ধ প্রতিষ্ঠান ইউনিয়নকে পাশ কাটিয়ে আদালতে যেতে কমফোর্ট ফিল করে । যেখানে একজন গণমাধ্যমকর্মীর শ্রম ঘামে মালিক লাভ করেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে ফুলে ফেঁপে ওঠে । কেউ কেউ কর্পোরেট পুঁজি রক্ষার জন্য গণমাধ্যমের মালিক বনে যান । সেই মালিক যাদের শ্রমে-ঘামে প্রতিষ্ঠানের পূর্ণতা পায় তাকেই বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরিয়ে সুখ পায় ।
আবার কোনো সাংবাদিক এতো কিছু প্রতিকূলতার মধ্যেই তার দাবির স্বপক্ষে মামলায় বিজয়ী হয়ে যায় । টাকা পরিশোধে নেতিবাচক অবস্থান নিয়ে অধিক হয়রানি করার জন্য মালিক পক্ষ আবার উচ্চ আদালতে আপিল করে টাকার জোরে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখে ।
এখানে উল্লেখ করা যায় বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম মালিকের নানা ধরনের মামলা থাকে এবং মামলা পরিচালনা করার জন্য নিয়োগ থাকে ডাকসাইটে আইনজীবী । এ অবস্থায় মালিক পক্ষ থেকে আর অতিরিক্ত ব্যয়ের কোনো আইনজীবী নিয়োগ প্রদান করা প্রয়োজন হয়না । উপরন্তু বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরে একটা রায় নিজের পক্ষে পাওয়ার পর মালিক পক্ষ উচ্চ আদালতে যে আপিল মোকদ্দমা দায়ের করেন সে আপিল মোকাবিলা করার জন্য যে ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া দরকার সেই সামর্থ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে ওঠে না ।
তার পর রয়েছে আদালতের নানা ধরনের জটিলতা । শেষ পর্যন্ত ওই মামলার রায়ের সুফল সাংবাদিকদের ভোগ দূরের কথা ভোগান্তির শেষ নেই ।
অন্যদিকে একজন গণমাধ্যমকর্মী আইনগতভাবে তার শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মামলা দায়ের করেছেন একথা যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান জেনে যায় তাহলে পরবর্তীতে তার জন্য একটি চাকুরি যোগাড় করা কষ্ট সাধ্য হয়ে যায় । এসব ভেবে অনেক গণমাধ্যমকর্মী নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েও মামলা থেকে দূরে থাকে । এর অর্থ দাঁড়ায় মালিকদের সুবিধা নিশ্চিত হয়ে যায় । একজন গণমাধ্যমকর্মী পেশাগত জীবনের সারাটা সময় জুড়ে সব শ্রেণী পেশার মানুষের অধিকার বঞ্চনার কথা তুলে ধরে সে ই কিনা তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় ক্রমাগত ।
করোনা পরিস্থিতির এই বিশ্ব মহামারীর সময় বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের অবস্থা অন্য যেকোনো শ্রেণী পেশার মানুষের চাইতে খুবই খারাপ । ইতোমধ্যে কমপক্ষে পাঁচ জন গণমাধ্যমকর্মী করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। বেশ কয়েকটি পত্রিকার প্রিন্ট ভার্সন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । যেসব পত্রিকা অন লাইন ভার্সন খোলা রেখেছেন যতটা আমি জানি বুঝি তাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে ঘোষণা অনুযায়ী অনলাইন ভার্সনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই । এবং এখন পর্যন্ত সরকার কোনো বিধি দ্বারা অনলাইন সংবাদ পত্রের অনুমতি প্রদান করেনি । সেই অনুযায়ী কয়েকটি পত্রিকা এ অবস্থার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে । জেনেছি প্রিন্ট ভার্সন বন্ধ করে দেয়া একাধিক প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে। কবে নাগাদ বকেয়া পরিশোধ করা হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। মূলধারার পত্রিকা ও টেলিভিশন ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের এ পরিস্থিতিতে কিভাবে বেতন ভাতা পরিশোধ করবে সে সামর্থ্য অনেকের নেই । কারণ হিসেবে জানা গেছে টেলিভিশনের আয় বেসরকারি বিজ্ঞাপনের অর্থ অন্য দিকে সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক পত্রিকা সমূহের মূল আয় সরকারি দরপত্র বিজ্ঞপ্তির বিজ্ঞাপন বিল। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে পত্রিকা ও টেলিভিশনের জন্য বেতন ভাতা পরিশোধ করতে পারবে না কিংবা করবে না । আমি আগেই উল্লেখ করেছি আমাদের পেশাগত সাংবাদিকদের গড়ে শতকরা বিশ ভাগ বেকার । আগামী কতো দিন চলবে এই করোনা যুদ্ধ তার অনুমান নির্ভর নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তাদের কারো পক্ষেই একটা চাকুরি যোগার করা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না । একদিকে কম করে হলেও হাজার খানেক পেশাদার সাংবাদিক বেকার অন্য দিকে করোনা ক্ষতিগ্রস্ত পরিস্থিতিতে ছোট বড় অধিকাংশ মিডিয়া হাউজ আর্থিক সংকটে আছে যার প্রথম ধাক্কাটা দেবে মালিক পক্ষ সাংবাদিকদের বেতন বন্ধ করে দিয়ে। অথচ গণমাধ্যমকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে যথাযথ করোনা সুরক্ষা ছাড়াই যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো দায়িত্ব পালন করছেন।
সামনে রমজান-ঈদ, করোনা এলোমেলো করে দেয়া অর্থনীতির মেরামত পর্বে কিভাবে সাংবাদিক সমাজ মোকাবিলা করবে ?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক,
সাবেক সভাপতি- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)

ভোলায় সাংবাদিকের উপরে হামলাকারী চাল চোর চেয়ারম্যানের ছেলে নাবিলকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি।

এস আল-আমিন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মানিকা ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন হায়দারের ছেলে নাবিল মোবাইল চোর ও ছিনতাইয়ের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাংলাদেশ অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি সাগর চৌধুরীকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে জানাগেছে, ৩১ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় উপজেলার রাজমনি সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।এবং স্থানীয় লোকজন তাকে নাবিলের হাত থেকে ছাড়িয়ে নেয়। হামলারকারী নাবিল মারধরের এক পর্যায়ে নিজের মোবাইল ফোনে ফেজবুক লাইভ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। আর মুহুর্তের মধ্যেই সে ভিডিও ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর একটু পরই নাবিল তার সে পোস্টে কমেন্টস অপশন বন্ধ করে দেয়।

গুরুতর আহত সাগর চৌধুরী জানায়, গরিবের নামে বরাদ্দকৃত চাল রাতের আধারে পাচার করার তথ্য পেয়ে সে পাচারকৃত চালের ছবি তুলে রাখে এবং প্রশাসনকে অবহিত করে। আর এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালানো হয়।
হামলার পর নির্যাতিত সাংবাদিক সাগর চৌধুরী বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে চেয়ারম্যান ও তার সাংগপাঙ্গরা মামলা করতে দেয়নি। এমনকি বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসেবাও নিতে দেয়নি। এরপর ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথেও চেয়ারম্যানের লোকেরা সাগর চৌধুরীকে উঠিয়ে নিয়ে যায় ইউনিয়ন পরিষদে, সেখানে নিয়ে তাকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এরপর সেখান থেকে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনা জানাজানি হবার পর ফেজবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম তথা রাজনৈতিক মহলেও তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।বোরহানউদ্দিন প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সমাজ এই হামলার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান৷ এবং সেই সাথে সাংবাদিক সাগর চৌধুরীর উপরে সন্ত্রাসী হামলাকারী নাবিলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন অনেকেই।

কুমিল্লার সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় ৯ দিনেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

আমাদের কুয়াকাটা ডেস্ক।।
কুমিল্লায় পত্রিকা অফিসে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীদেও হামলায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার কুমিল্লাস্থ স্টাফ রিপোর্টারর ও কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কুমিল্লার ডাক পত্রিকার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত করার ঘটনার ৮ দিনেও যেখানে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ নিরব কিংবা বিচারের দাবীতে সোচ্চার হতে পারেনি,

বিপরীতে কুড়িগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গভীর রাতে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এক সংবাদ কর্মীকে জেলসহ মারধরের ঘটনায় বিচারের দাবীতে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কুমিল্লায় সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন মহলে।

জানা যায়, ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক সময়ের আলোর পত্রিকার কুমিল্লাস্থ স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কুমিল্লার ডাক পত্রিকার সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী গত ৭ মার্চ রাতে অফিসে দৈনন্দিন কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাত আনুমানিক সোয়া ১০ টায় কুমিল্লা মহানগরীর টমসমব্রীজ এলাকায় একদল সন্ত্রাসীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। এঘটনায় আহত সাংবাদিকের ছোট ভাই কোতয়ালী মডেল থানায় দু’জনের নাম উল্লেখসহ ৪/৫ জন অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে একটি মামলা রুজু করে।

এদিকে ঘটনার পর এটিএন নিউজ টিভি চ্যানেলের এক সাংবাদিকছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী হাসপাতালে ছুটে যায়। পরে কয়েকটি অনলাইনসহ কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত ৩ টি দৈনিকে সংবাদটি ছাপা হলেও টিভি চ্যানেল ,জাতীয় দৈনিক বা কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত বেশ কটি পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকে। এরপর ১৬ মার্চ বিকেল পর্যন্ত ৯ দিন পার হলেও হামলায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজও এনিয়ে কোন মানব বন্ধন বা প্রতিবাদ সমাবেশ করার জন্য এগিয়ে আসেনি। এদিকে ১৩ মার্চ শুক্রবার মধ্যরাতে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলাট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন এর নির্দেশে তার শহরের চড়ুয়াপাড়ার বাসার দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মারধোর করে ডিসি অফিসে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এক বছরের জেল দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে কুমিল্লার সহ সমগ্র বাংলাদেশের সংবাদ কর্মীরা।

এজন্য প্রতিবাদ সমাবেশসহ মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করে। এখানে দু’জন নির্যাতিত সংবাদ কর্মী নিয়ে ঘটনা। নিজ জেলার সংবাদকর্মীরা নিজ জেলার সন্ত্রাসী হামলার শিকার সাংবাদিকের জন্য বিন্দুমাত্র সহমর্মিতা বা সহানুভূতি প্রকাশে এগিয়ে না এসে দেশের অন্য প্রান্তে অন্যএকজন সংবাদ কর্মীর জন্য সহানুভূতি প্রকাশে মানব বন্ধন,প্রতিবাদ সমাবেশ ! সহমর্মিতা,সহানু ভূতি তো দু’জনের বেলায় উচিত ছিল।

কুমিল্লার সংবাদকর্মীরা কি এব্যাপারে এগিয়ে না এসে তাদের হীনমন্যতার পরিচয় দেয়নি কিংবা কুমিল্লায় যে অমিল সেটা প্রকাশ করেনি সাধারনের কাছে ? তাইতো নগরীতে অনেক সাধারন মানুষকে বলতে দেখা গেছে নিজেদের মাঝেই অমিল রেখে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ কুড়িগ্রামের সাংবাদিকের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে কি বুঝাতে চাইল।

বাউফলের সাংবাদিক জিল্লুর রাহী আর নেই.

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:

সিএনএন বাংলা টিভি ও জাতীয় দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার বাউফল প্রতিনিধি ও উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি সাংবাদিক জিল্লুর রাহী আর নেই꫰ তিনি চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেছেন ꫰ তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়ানের বিলবিলাস গ্রামের মৃত. বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত মিয়ার ছেলে ꫰

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিডনি ও ফুসফুস জনিত রোগে ভুগতে ছিলেন ꫰ তাই নিজ বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া ভর্তি করে ꫰ পরে অবস্থার অবনতি দেখা দিলে শুক্রবার (১৩ ই মার্চ ২০২০) সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলে এমবুলেন্সে বরিশাল মেডিকেল যাবার পথে বেলা ১১:৩০ মিনিটের সময় তিনি মারা যান꫰ ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন )꫰

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর ꫰ তারা ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে তিনি বড় ছেলে ছিলেন ꫰ তিনি ৩ ছেলে ১ মেয়েসহ স্ত্রী ও অসংখ্য আত্মীয় স্বজন গুনগ্রাহী রেখে গেছেন ꫰ তাকে শনিবার (১৪ই মার্চ-২০২০) সকাল ৯টার সময় জানাযা নামাজের শেষে তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করবেন ꫰

তার মৃত্যুতে সাবেক চীফ হুইপ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আ.স.ম.ফিরোজ এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারসহ পটুয়াখালী জেলা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ এবং বাউফল প্রেসক্লাব আন্তরিক শোক প্রকাশ করেছেন।।