বরিশাল ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা শেখরের করোনা দুর্যোগে বিকাশ বাণিজ্য।।

57

বিশেষ প্রতিনিধি

করোনা দুর্যোগে সরকারের তালিকাভুক্ত অসহায় মানুষের কাছে থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলী পদক্ষেপ রাখলে বরিশাল নগরীর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শেখর চন্দ্র দাস। শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এই নেতা সরকারের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অন্তত তিন শতাধিক মানুষকে কার্যালয়ে একত্রিত করলেন। বান্দরোডস্থ জেলা পরিষদের মার্কেটের দ্বিতীয় তলার কক্ষটিতে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই তাদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামাজিক দুরত্ব সিদ্ধান্তও থেকে যায় উপেক্ষিত। অভিযোগ সরকারি তরফে অর্থ সহায়তা পেতে যাওয়া ওই ওয়ার্ডে ২১শ’ লোকের তালিকা ধরে সকলের বিকাশ একাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত দেন। এবং এজন্য তিনি প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ টাকা হারে টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু টাকার লেনদেন তিনি নিজহস্তে না করে কৌশলী পদক্ষেপস্বরুপ ওই ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ কর্মী প্রাঙ্গন ও হারুনকে দিয়ে সম্পাদন করান।

ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখর চন্দ্র দাস মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার এই অভিযোগ করলেও শনিবার সেখানে যাওয়া একাধিক নারী-পুরুষ তা স্বীকার করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি সাক্ষাতকারের ভিডিও এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

উল্লেখ্য করোনা দুর্যোগে কর্মহীন অর্ধলক্ষ মানুষকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৫শ’ টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অর্থ যার যার মুঠোফোনের বিকাশ একাউন্টে চলে যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যাদের একাউন্ট করা নেই, তাদের মোবাইল নম্বরটিতে শুক্রবার ‘নগদ’ সার্ভিস অটোমেটিকভাবে চালুও করে দেয় সরকার।

জানা গেছে- সরকারের ওই তালিকায় বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের অন্তত ৬০ হাজারের বেশি মানুষ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এতে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ২১’শ নারী-পুরুষ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

সূত্র জানায়- সেই তালিকার একটি কপি আ’লীগ নেতা শেখর হাতে পেয়ে গত তিনদিনে দফায় দফায় অন্তত ১ হাজার মানুষকে বান্দরোডস্থ ওয়ার্ড কার্যালয়ে ডাকেন। সেখানে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে প্রত্যেকের কাছ থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলার নাম করে ২০ টাকা হারে টাকা উত্তোলন করেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি সাইফুল ইসলামকে এ সংক্রান্তে কোন কিছু অবহিত না করেই ব্যক্তি সিদ্ধান্তে শেখর এমনটি করছেন বলে অভিযোগে শোনা গেছে।

যদিও এই বিষয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করতে নারাজ থাকার কথা জানিয়েছেন ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়- শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওয়ার্ড আ’লীগের কার্যালয়টিতে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ সমাবেত হন। এসময় সামাজিক দুরত্ব তারাতো মানেইনি বরং গাদাগাদি করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়েছিলেন। তখন কার্যালয়ের অভ্যন্তরে চেয়ারে বসে প্রাঙ্গন ও হারুন তালিকা ধরে প্রত্যেকের কাছ থেকে বিকাশ একাউন্ড খোলা বাবদ ২০ টাকা করে উত্তোলন করে। নিশ্চিত হওয়া গেছে এরা দুজনেই সাধারণ সম্পাদক শেখরের লোক বলে সমাধিক পরিচিত।

একাধিক নারী এ প্রতিবেদকের ক্যামেরা সামনে স্বীকার করেন- তালিকা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আ’লীগ কার্যালয়ে ডাকলেও প্রত্যেকের কাছ থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলার নাম করে কৌশলে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিকাশ একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে টাকা প্রয়োজন নেই একজন এমন দাবি করলে তার ওপর শেখরের লোকদের চড়াও হতে দেখা যায়। এনিয়ে উপস্থিতিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। পরবর্তীতে তারা বিষয়টি মিডিয়াকর্মীদের ক্যামেরার সামনে প্রকাশ করেন।

তবে এসব অভিযোগসমুহ অস্বীকার করেছেন আ’লীগ নেতা শেখর চন্দ্র। তার দাবি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চেক করতে তাদের ডাকা হয়েছিল। এসময় বিকাশ একাউন্ট খোলার নামে কেউ টাকা নিয়েছেন কী না তা তার জানা নেই।

টাকা দেবে সরকার কিন্তু মানুষকে আপনে কার্যালয়ে ডাকলেন কেন এমন প্রশ্নে তিনি রেগে গিয়ে প্রতিবেদককে বলেন- আপনার যা মন চায় লিখে দেন। এবং সাথে সাথে মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।’

ওয়ার্ড আ’লীগ নেতার এই বিকাশ বাণিজ্যের বিষয়টি চাউর হয়ে যাওয়ায় ভাটারখাল ও চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড আ’লীগের ইমেজ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এক্ষেত্রে এবার ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামের ভাষ্য হচ্ছে- বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। কিন্তু করোনা দুর্যোগের কারণে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে তিনি ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি এই নেতা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে, মন্তব্য করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here