বাংলার বুকে সত্যিকারে বীর সাংবাদিকরাই,বার মাস কাজ করে বেতন-ভাতা ছাড়া।।

175

মোঃ শিফাত মাহমুদ ফাহিম, বিশেষ প্রতিনিধি।।
বৈশ্বিক এই মহামারিতে সরকারের বরাদ্দ আছে অনেক এর জন্য।কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য কোন ধরণের কোন বরাদ্দ নেই। সব ধরণের পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদের পেছনে ছুটতে হয় সংবাদকর্মী তথা সাংবাদিকদের।আর করোনার মতো মহামারির সময়েও থেমে থাকার ও কোন উপায় নেই সংবাদকর্মীদের।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করায় বাংলাদেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা ও সচেতনমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সরকারের পাশাপাশি সব সময় মাঠে থেকে কাজ করছেন দেশের সংবাদকর্মীরা।

ইতিমধ্যে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।সব কিছু বন্ধ থাকলেও সংবাদকর্মীরা কিন্তু মাঠে কাজ ঠিকিই করে যাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।তাদের নেই কোন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক সরঞ্জাম।

গ্লাভস কিনতে হয়, মাস্ক কিনতে, পি, পি কিনতে হয় আবার সবকিছুই নিজের পকেট থেকে কেনা লাগে বাহ্! এরপরেও কাজ করছেন সাংবাদিকগণ যারা দেশবাসীকে বিশ্বাসের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিটি মুহূর্তে।করোনা প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন শুধু সাংবাদিকরাই অথচ সাংবাদিকদের কথা তুলে ধরার মতো কোন লোকই নেই এই গণতান্ত্রিক স্বাধীন রাষ্ট্রে।

শহরের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের গৃহবন্দির কথা, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা, তাদের জীবন জীবিকার কথা,হাজারও সমস্যার কথা প্রতিনিয়ত তুলে ধরছেন সংবাদকর্মীরা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্মম সত্যকে প্রকাশ করতে ভীত হচ্ছেন না তারা।দেশের এমন পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মীর পরিবার আছে, সংবাদকর্মীর সংসার আছে, সংবাদকর্মীর ভাত খেতে হয়।বড় আফসোস! আমাদের নিয়ে করার এদেশে কেউ নেই।

করোনা পরিস্থিতিতে গরীব মধ্যবিত্তদের মতো তাদেরও আয়ের পথ বন্ধ রয়েছে।তাদের আর্থিক সহযোগীতা সহ বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়ার কথা আমাদের দেশের নীতি নির্ধারকদের কি একবারও ভাবা উচিত নয়? করোনা ভাইরাস বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। যার ব্যাপকতা বাংলাদেশকে ও আক্রান্ত করেছে।

করোনা ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ পর্যন্ত আবিষ্কার এখনো হয়নি। সামাজিক সচেতনতাই এই ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র স্বীকৃত পন্থা হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে শুরু থেকে।এই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাংবাদিকরা সব থেকে বেশি অবদান রাখছেন।এই ক্রান্তিকালে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে মানুষকে অবহিত করছেন প্রতিটি ক্ষণে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তারা একবার হিসাব মিলিয়ে দেখেন।তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও তাদের’কে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করা রাষ্ট্রের জন্য একান্ত আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আমি মনে করি।

সাংবাদিকরাও মানুষ,আমাদের আপনাদের মতো জীবন আছে, পরিবার পরিজন আছে।শুধু আমরা প্রকৃত সাংবাদিকরা মৃত্যুভয়ে ভীত নই। সৎ পথে থেকে সততার সঙ্গে জীবনযাপন করছি। অঢেল ধন-দৌলতের প্রয়োজন নেই আমাদের,তবে ন্যূনতম সম্মানীর ব্যবস্থা করা হোক আমাদের জন্য এটা সংবাদকর্মীদের পক্ষ হয়ে আমার একান্ত দাবী।

উল্লেখ্য যে,ডাক্তারি মহান পেশা কিন্তু ডাক্তার রোগী দেখতে টাকা নেয়,শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর কিন্তু পড়াতে গেলে টাকা নেয়, মসজিদের ইমাম কোরআন পড়াতে টাকা নেয়, প্রশাসন রাষ্ট্রের শান্তি বাহিনী দায়িত্ব পালন করলে টাকা নেয়।হ্যাঁলো- মাননীয়’রা আপনাদের বলছি, তাহলে সাংবাদিকদের বেলায় কেন এত অবহেলা করা হচ্ছে?

বড় কষ্ট হয় প্রশাসনের কিছু বাবুরা যখন আমাদের সাথে বাজে আচারণ করে।কেননা এই করোনা মহামারিতে তারা একসাথে সবাই জটলা ধরে বসে থেকে যখন প্রেস লেখা দেখে সাংবাদিকদের বাইক থামিয়ে সামাজিক দূরত্ব শিখায়।আরে ভাই আমরা সমাজিক দূরত্ব বুঝি আমাদের আপনার মতো জীবন আছে কিন্তু আমাদের মতো ত্যাগ করার ক্ষমতা আপনার নেই।

কেননা সরকার যদি বলে,আপনাকে দুই/এক মাসের বেতন দেয়া হবেনা তাহলেই তো আপনি চাকুরী ছেড়ে চলে যাবেন।আর আমরা সংবাদিকরা বেতন-ভাতা ছাড়াই বার মাস চলি আর শুধু আপনাদের মতো বাবুদের সংবাদ প্রকাশ করি আমরা না থাকলে আপনি কত বড় বাবু তা কেউ জানতো না। মাথায় রাখবেন আমরাও কিন্তু মানুষ।

যাইহোক,সাংবাদিকরা জীবন বাজি রেখে সংবাদ দেয় বলেই তো জনগণ সারা বিশ্বের খবরা-খবর মুহূর্তেই জানতে পারে। তাই আমি জাতির এই ক্লান্তি লগ্নে একজন সংবাদকর্মী/সাংবাদিক হিসাবে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি এই বৈশ্বিক মহামারিতে মাঠে থাকা সংবাদকর্মী/সাংবাদিকদের জন্য যেনো কোন বরাদ্দ দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here