‘থানকুনি’ পাতায় করোনা মুক্তি ছড়িয়েছে “গুজব”

110

জুলহাস স্টাফ রিপোর্টার:

থানকুনি পাতার রসে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি মেলে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে গোটা জেলায়। আজগুবি এমন তথ্য কারা ছড়িয়েছে এর সূত্রপাত জানা যায়নি। তবে চিকিৎসা বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, এটা স্রেফ গুজব বৈ কিছু নয়।

থানকুনি পাতার রস পানে করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে বাঁচা যায় এমন তথ্য মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে গোটা জেলায়। বিশেষ করে মুঠোফোন ও মসজিদের মাইকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে দ্রুত শহর থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে এ খবর। আর রাত বিরাতে মানুষ একদিকে যেমন প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনের সাথে এ খবরটি ছড়িয়ে দেয় তেমনি খোঁজ লেগে যায় গুল্ম প্রজাতির এ গাছ সংগ্রহের। গভীর রাত অব্দি বন বাঁদার দাপিয়ে অনেকেই সংগ্রহ করে এই পাতা। আর বেটে চলে রস পান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেউ একজন স্থানীয় একজন বুজুর্গ ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখতে পান এবং তিনি স্বপ্নযোগে করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে বাঁচতে থানকুনি পাতার রস পানের পরামর্শ দেন এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। মুহুর্তেই তা ছড়িয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং থেকে মুঠোফোনে পরষ্পর তথ্য আদান প্রদান চলে।

বরগুনা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মোঃ সৈয়দ শাহে আলম মুঠোফোনে বলেন, “থানকুনি পাতাকে স্থানীয়ভাবে ‘ আদা থনথুনি” পাতা বলা হয়। এটি মুলত এক প্রকার ওষধি প্রজাতির গুল্ম প্রজাতির লতা। বনে বাঁদারে রাস্তার আশপাশে এসব লতা জাতিয় পাতার জন্ম। আগাছা প্রকৃতির হলেও থানকুনি পাতা পেটের পীঁড়ায় কার্যকরি বলে প্রচলিত। ভেষজ হিশেবে পেটের পীড়া বা পাকস্থলীর সমস্যায় এ পাতার রস সেবনে সমর্থন করা হয়। এর সাথে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। এটা স্রেফ গুজব”।

তবে বিশ্বব্যপি ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় থানকুনি পাতার রস সেবনের কোনো কার্যকরিতা নেই এবং প্রতিরোধেও কোনো ভূমিকা রাখেনা এমনই মন্তব্য চিকিৎসাবিদদের। বরগুনার সিভিল সার্জন হুমায়ুন শাহীন খান মুঠোফোনে বলেন, থানকুনি পাতার রসে পেটের পীঁড়াসহ পাকস্থলীজনিত কিছু রোগে উপশম হয়। তবে করোনা ভাইরাস মুক্ত থাকার নামে যদি কেউ গুজব ছড়ায় এটা স্রেফ বোকামি। তিনি এমন গুজবে কান না দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলতে সবাইকে অনুরোধ জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here