কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য উদ্বোধন হলো অত্যাধুনিক ট্যুরিজম পার্ক ॥

111

কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ কুয়াকাটায় পর্যটকের বহুমুখি সুবিধা সংবলিত শুভ উদ্বোধন হলো ট্যুরিজম পার্ক। মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী। তিনি ফিতা কেটে এ পার্কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এসময় পটুয়াখারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ হেমায়েত উদ্দিন, কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুনিবুর রহমান, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা প্রমুখ। এ পার্কটি উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে পর্যটক তার প্রত্যাশিত সময় উপভোগের সুযোগ পাবেন।

পর্যটন এলাকার উন্নয়নে ২০১০ সালে কুয়াকাটাকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। চুড়ান্ত হয়েছে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাস্টার প্ল্যান। ইতোমধ্যে যার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে । এরই অংশ হিসেবে এই ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণ করা হয়। বেড়িবাঁধের বাইরে সৈকত লাগোয়া নারিকেল বাগানোর মধ্যে খালি জায়গায় ১৬০ ফুট দীর্ঘ এবং ১২০ ফুট প্রস্থ এই পার্কটির নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অর্থায়নে এক কোটি টাকা ব্যয়-বরাদ্দে সাগরপারে দৃষ্টিনন্দন পার্কটি নির্মিত হয়েছে।

পার্কটিতে রয়েছে বহুমুখি সুযোগ-সুবিধা। সাগরে গোসল করতে নামার আগে পর্যটকরা পার্কটিতে থাকা লকার ব্যবহার করতে পারবেন। যেখানে জুতো-স্যান্ডেল, মোবাইল, টাকা-পয়সাসহ সবকিছু গচ্ছিত রাখতে পারবেন। নামে মাত্র সার্ভিস চার্জের বিনিময় এ লকার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। টিনশেড আধুনিক ডেকোরেশন সমৃদ্ধ একতলা আলাদা বিশ্রামাগার থাকছে। বসেই উত্তাল সমুদ্রে দৃষ্টি রাখতে পারবেন পর্যটক। পুরুষ ও মহিলাদের আলাদাভাবে পোশাক-পরিচ্ছদ পাল্টানোর মতো স্পেস নিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।

আলাদা প্রসবখানাসহ টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত ওয়াশরুম, ৫০ সিটের কফি হাউস থাকছে। ইতোমধ্যে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এ পার্কে বিশাল আকৃতির স্থায়ী ছাতা থাকছে। যার নিচে পর্যাপ্ত সংখ্যক চেয়ার থাকছে। রয়েছে বেঞ্চি। পার্কটি সবসময় প্রশাসনিক নিরাপত্তার আওতায় রাখা হবে। পার্ক অভ্যন্তরে বিশেষ কারণে পর্যটকরা রাত্রি যাপনেরও সুযোগ পাবেন। বর্তমানে এ পার্ক ঘিরে কুয়াকাটায় আসা পর্যটক-দর্শনার্থীর বিনোদন কেন্দ্রীক নতুনমাত্রা যোগ হলো।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পর্যটকের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ পার্কটি নির্মাণ করার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীতের ধারাবাহিক একটি কাজ এই ট্যুরিজম পার্ক। পর্যটকরা এখন স্বাচ্ছন্দে কুয়াকাটা উপভোগ করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর মাস্টার প্ল্যান অনুসারে কুয়াকাটার উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here