বাল্যবিবাহের প্রধান কারণই হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মোবাইল ফোন ব্যবহার।।

125

আমাতের কুৃয়াকাটা ডেস্ক।।
স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ১৮ বছরের কম বয়সীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে কোন অবস্থাতেই বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের পাশাপাশি এজন্য পরিবারের সদস্যদের মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসাথে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে সিম রেজিষ্টেশনকারী ব্যক্তিকে জেল ও জরিমানার আওতায় আনতে হবে। বাল্যবিবাহের প্রধান কারণই হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নানা নেতিবাচক দিকে ধাবিত হওয়া। ফলে পরিবারের সদস্যরা ইজ্জতের ভয়ে অল্পবয়সেই ছেলে-মেয়েদের বাল্যবিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই প্রথমেই প্রধান কারণ নিমূল করা সম্ভব হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সফলতা আসবে।

বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে উপজেলা ভিত্তিক প্লাটফরম গঠনের জন্য জেলার গৌরনদী উপজেলায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল সভায় এমনই অভিমত দিয়েছেন আলোচকরা।

নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহের কোন ক্ষমা নেইচ্ শ্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় সিসিডিবিথর হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা চক্রবর্তী নিতাই লাল। সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তা, বিবাহ রেজিষ্টার, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ইউএসএইডথর অর্থায়নে সভার আয়োজন করেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আভাস, রূপান্তর ও যশোর রাইটস্।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের নেয়া নানাকর্মসূচির মতো নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একাধিকবার এলাকাবাসীকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করতে হবে। ওইসব সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করতে হবে।

আভাসের প্রজেক্ট অফিসার নার্গিস পারভীন মুক্তা ও স্বেচ্ছাসেবী এনজিও এইডথর নির্বাহী পরিচালক প্রেমানন্দ ঘরামীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ বাদশা ফয়সাল।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভীন, বিআরডিবিথর কর্মকর্তা মোঃ তুহিন হোসেন, অধ্যক্ষ মীর আব্দুল আহসান আজাদ, মাইনরিটি রাইটস্ ফোরামের উপজেলা সভাপতি সুদীপ্ত অধিকারী, রূপান্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা অসীম আনন্দ দাস, গৌরনদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি খোকন আহম্মেদ হীরা।

উন্মুক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাহিলাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মণীষ চন্দ্র বিশ্বাস, ইউপি সদস্য অমলা রানী বিশ্বাস, আভাসের হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা লিমন কৃষ্ণ সাহা, বিবাহ রেজিষ্টার মোঃ রুহুল আমীন, মিন্টু সামূয়েল বৈরাগী প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ে নানাদিক তুলে ধরা হয়। শেষে সর্বসম্মতিক্রমে উপজেলা ভিত্তিক প্লাটফরম গঠনের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here