আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদমিনারে সেলফিবাজদের দৌরাত্মে বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিতে পারেনি ॥

111

কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ
কলাপাড়ায় কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাত ১২টায় ফুল দিতে পারলোনা বিভিন্ন সংগঠন। ণহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন। ফলে এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই ফুল দিতে না পেরে ক্ষোভে-দু:খে ফুলেরতোরা রেখে চলে গিয়েছেন। শ্রদ্ধা জানানোর সময় কোনো সুষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা না থাকায় অনেকেই উপজেলা প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে রাত ১২ টার আগেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়। রাত ১২ টা ১ মিনিটে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মহিব্বুর রহমান সবার আগে শহীদবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কে কার আগে বেদিতে ফুল দিবেন এ নিয়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিযোগিতা।

শহীদবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ফটোশেসন আর সেলফি তোলার বিষয়টি ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাকর ও দুঃখজনক। এ সময় শহীদমিনারের পাদদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন, অন্যসব রাজনৈতিক দলসহ গণমাধ্যমকর্মীদের নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

গণমাধ্যমকর্মীরাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শহীদমিনারের মুল বেদিতে ফুল দিতে উঠতে না পেরে শহীদমিনারের সিড়িতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। রাত সাড়ে ১২ টার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এ নিয়ে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ বছর একুশের কোনো অনুষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ না করারও তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন।

শুক্রবার কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে এসে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে। পুনরায় শুক্রবার ভোরে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।

কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, শহীদবেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবে যে যার মতো চলে যাবে। সবসময় এরকমই হয়েছে। অথচ এবার ভালোভাবে কেউ ফুল দিতে পারেনি।

এটা মোটেই কাম্য নয়। তাছাড়া শহীদ মিনারের মূলবেদি সেলফি তোলার জায়গা নয়। প্রশাসনের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সময় যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেটা নিয়ন্ত্রন করা হবে। তা ছাড়া কে কার পর ফুল দিবে তা মাইকে ঘোষনা করা হবে। অথচ এদিন ফুল দেয়ার সময় কোনো ব্যবস্থাপনা ছিলনা। যা মোটেই ঠিক হয়নি।

কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, থানায় কোন অভিযোগ আসলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here