যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ।

53

আমাদের কুয়াকাটা ডেস্ক।। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আল সাইফুল সোহাগ’র বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্তে কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। উপজেলার সোনাপাড়া মৌজার জেএল ৩৮ এর বিএস ৫৩৪৬ ও ৫৩৪২ দাগের সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানের তিন একর জমি তিনি দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যায় ভাবে দীর্ঘদিন দখলে রেখে মাছের ঘের করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদার মো: কামরুল ইসলাম।

 

এর আগে যুবলীগ সহ-সম্পাদক সোহাগ’র বিরুদ্ধে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় ’যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন’র নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন শনিবার
বিরোধপূর্ন ওই জমিতে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান, কলাপাড়া ইউএনও মো: মুনিবুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ যুবলীগ নেতা সোহাগ ও ভুক্তভোগী পাঁচ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এদিকে কলাপাড়া ভূমি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার সোনাপাড়া মৌজার ৩১৯২ দাগে ১.৫০ একর এবং ৩১৮০ দাগে ০.৩০ একর ও ৩১৯২ দাগে ১.২০ সহ মোট তিন একর জমি বন্দোবস্ত পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে যথাক্রমে ৪৭৩-কে/৮৬-৮৭ ও ৪৫২-কে/৮৬-৮৭ কেস মূলে আবেদন করেন স্থানীয় ফিরোজ, পিতা-হোচেন আলী ও নুরউদ্দীন, পিতা-বাদশা মোল্লা। জেলা প্রশাসক কেস দু’টির অনুমোদন দেয়ার পরও বন্দোবস্ত গ্রহীতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এটি রেজিষ্ট্রীকবুলিয়ত পেতে আবেদন না করায় এটি রেজিষ্ট্রী না হওয়ায় ফিরোজ ও নুরউদ্দীন’র অনুকূলে স্থানীয় ভূমি অফিসে তাদের নামে নতুন খতিয়ান সৃজন না হওয়ায় ওই তিন একর জমি এসএ জরিপে সরকারের খাস খতিয়ানে এবং সর্বশেষ বিএস জরিপেও সরকারের খাস খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত থাকে। এতে বর্তমানে ওই তিন একর
জমির মালিক সরকারের পক্ষে পটুয়াখালী জেলা কালেক্টর বলে জানিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিস সার্ভেয়ার মো: আনিচুর রহমান।

কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাশ বলেন, ’উপজেলার সোনাপাড়া মৌজায় যুবলীগ নেতা সোহাগ’র নামে লীজ নেয়া জমি পূর্বেই বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তার মাছের ঘেরের অনুকূলে তার কোন মালিকানা স্বত্ত্বের প্রমান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মাছের ওই ঘেরের জলাশয় ও জমির মালিকানা সরকারের। এছাড়া ওখানে সরকার পাঁচ ভূমিহীন পরিবারকে সাড়ে ৭ একর জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে তাদের সম্পত্তি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারন করে দেয়াহবে।

 

বিরোধপূর্ন এ জমি নিয়ে যুবলীগ নেতা সোহাগ স্থানীয় ভূমি অফিস তহলিশদার
কামরুল সহ বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারের নামে তার লোক দিয়ে জুডিসিয়াল
ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সি.আর-৭৯৬/২০১৯ মামলা করিয়েছে, যা উপজেলা
চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে তদন্তাধীন আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here