খাজুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট পাঠদানে বিঘ্ন

73

মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা ॥ মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ॥
কুয়াকাটার খাজুরা (৮ম শ্রেণি) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংকটে পাঠদানে বিঘœ। ফলে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার শংকায় রয়েছে অভিভাবক ও ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত (স্বল্প সংখ্যক) শিক্ষকবৃন্দ। বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমুন্নত করতে সারাদেশে শিক্ষা বিস্তার লাভে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দ্বোরগোড়ায় পৌছাতে পরীক্ষামূলক জনগুরুত্বপূর্ন এলাকার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় পর্যটননগরী কুয়াকাটার অদূরে খাজুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অথচ বিদ্যালয়টিতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হলেও শিক্ষক কাঠামো বাড়ান হয়নী।
সরেজমিনে জানাযায়, ওই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংখ্যা রয়েছে ডেপুটিশনের ১জনসহ ৪জন। যেখানে সঠিক পাঠদানে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ই ৮জন শিক্ষক প্রয়োজন, সেখানে ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত করলেও ৪জন শিক্ষক দ্বারা বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। ভালো পাঠদানে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক দরকার ১০জন কিন্তু শিক্ষা অফিসারদের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় ওই বিদ্যালয়টিতে পূর্বের ন্যায় ৩ থেকে ৪জন শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। নামে আছে কাজে নেই তারই প্রতিফলন ঘটছে এখানে।
দেখাযাচ্ছে কলাপাড়া উপজেলায় অনেকগুলো স্কুল রয়েছে যেখানে শিক্ষক সংখ্যা দশের অধিক। ওই সকল বিদ্যালয় ৬জন শিক্ষকদ্বারাও ভালোভাবে চালানো সম্ভব শুধু মানষিকতার অভাব। ৫ম শ্রেণির কোন স্কুলে শিক্ষক থাকবে দশের অধিক আর ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয় শিক্ষক থাকবে ৩থেকে ৪জন। এরকম বৈষম্য এটা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ জনগুরুত্বপূর্ন এলাকার কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত করণ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটি কৌশল মাত্র।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাবুদ্দিন বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয় একাধীকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোন সমাধান পাচ্ছি না। আমার স্কুলে বর্তমানে ৪জন শিক্ষক আছে, এই ক’জন শিক্ষক দিয়ে সঠিকবাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ ছালাম গাজী বলেন, ২০১২সালে স্কুলটি ৮ম শ্রেণিতে উন্নিত হওয়ার পর থেকে স্কুলের এমন করুন অবস্থার কথা শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট এর বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোন ফল পাইনী। অজ্ঞাত কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শুরু থেকে শুধু দিচ্ছি দিব বলে অদ্য পর্যন্ত আশ্বাস দিয়ে আসছে। অথচ এমনও স্কুল রয়েছে যেখানে প্রাথমিক পর্যায় দশের অধিক শিক্ষক রয়েছে। তাহলে শিক্ষা নীতির এ অব্যবস্থাপনার কথা কোথায় বলবো।
এ ব্যাপারে শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুর বাশার বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি অবগত আছি, তবে ১আগস্ট সমন্বয় সভা হবে সে সভায় ওই স্কুলে আরও দুইজন শিক্ষক দেয়ার ব্যবস্থা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here