কলাপাড়ায় মাদক সমরাজ্ঞী নিলুফার নির্যাতনে মাছুমা’র পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন

164

মোঃ জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ

‘জোর যার – মুল্লুক তার’ বাগধারাটির বাস্তবতা দেখিয়েছে মাদক সম্্রাজ্ঞী নিলুফা বেগমের জীবন চরিত্রে। সাফল্য তার এমনই- ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদও মানছেন না তিনি। ওয়ারীশ থেকে পাওয়া ৪ চার পুত্র ও ১ এক কন্যার নামীয় মাত্র ০.১৪ শতাংশ জমির বরাতে ২.২৮ একর জমি জোর যবর দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। সেই সংঙ্গে ৩ সদস্য বিশিষ্ট মাছুমা বেগম’র পরিবারকে হত্যা করে বসত ঘর দখল করার প্রকাশ্যে হুমকী, প্রতিনিয়ত অমানুষিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে যাচ্ছে। কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের মৃতু কাদের ফকিরের স্ত্রী মাদক সম্্রাজ্ঞী নিলুফা বেগম। একওই গ্রামের খালেক পাহলানের স্ত্রী মাছুমা বেগমের এমন অভিযোগ।

গত ৫ জুলাই সকাল ১০টার দিকে লিখিত অভিযোগে আরো বলেন, তাদের পরিবারে তারা স্বামী-স্ত্রী ও এক পুত্র সন্ত্রান মোট ৩জন। ২৪ নং জে এল হাজীপুর মৌজা, এস এ খতিয়ান নং ৪২৩, ৫১৫ দাগ নং- ৫৮৩,৫৮৪,৫৮৫,১৮৮৮,১৯২১,১৯২২সহ আরো ৩টি দাগে মোট জমি ১১.৪৫ একর জমি হইতে পুত্র জাহিদুল ইসলামের নামে ২৬/০৬/২০০৮ইং তারিখে ৩৭৯১ নং সাবকবলা দলিল মূলে স্থানীয় দাতা সুব্রত বাড়ৈ এর কাছ থেকে ০.৮৩ শতাং জমি ক্রয় করে। উক্ত জমি তাদের দখলে বুঝিয়ে দেয়। এর মধ্যে চৌহদ্দি বিশিষ্ট চাষযোগ্য ০.৬৬ শতাংশ এবং বসত বাড়িতে ০.১৭ শতাংশ জমি শান্তি পূর্ন ভাবে ভোগ দখলে ছিলেন। যাহার রেকর্ড,খাজনা দেওয়াসহ মিউটিশন পর্যন্ত রয়েছে তাদের। কিন্তু প্রায় তিন বছর ধরে নিলুফা বেগম তার নিজের জমি দাবী করে মিথ্যা মামলা, হামলাসহ নানাবিধ নির্যাতন করে যাচ্ছে। এমন কি রাতে ঘুমালে জানালা দিয়ে ময়লা আবর্জনা এমনকি লাঠিদারা পায়খানা ছুড়ে মারে নিলুফা ও তার সন্তানরা।

মাছুমা বেগম আরো জানান, মাদক সম্্রাজ্ঞী নীলুফার কন্যা ময়না আক্তার (২৭) কে ইয়াবা নামের মাদক ও বিক্রয়কৃত টাকাসহ হাতে নাতে আটক করে পুলিশ। গত ০৫/১০/২০১৮ইং রাত সাড়ে ১০টার দিকে। বরিশাল বিভাগীয় এ এস আই মোঃ জমিরুল ইসলাম, এ এস আই মোঃ ফারুক হোসেন ও সিপাহী মোঃ জিয়া উদ্দিন। কলাপাড়া থানায় মামলা নং- জি আর ৪৩৭/১৮। ময়না আক্তারের স্বামী মোঃ পান্না পল্লান মাদকসহ আটক হয়ে এখনও জেলহাজতে রয়েছে।

ওই মাদক কারবারী নিলুফা ও তার পরিবারের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে, কলাপাড়া বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিট্রেট আদালতের মামলা করেন মাছুমা। মামলা নং-৫৪/১৭। মামলার খবর পেয়ে নিলুফা আরো ক্ষিপ্ত হয়। আদালতের ধীর গতি ফলে প্রানে বেচেঁ থাকার তাগিদে গ্রাম আদালতে অভিযোগ দেয়া হয়। মামলা নং- ৩৩৯/১৮। অভিযোগের ভিত্তিত্বে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নোটিশ করে ২/০৯/১৮ইং, নোটিশে স্বাক্ষর না করে নিলুফা ফিরিয়ে দেয়, পুনরায় পরিষ ০৮/০৯/১৮ইং নোটিশ করে তাও ফিরিয়ে দেয়। গ্রাম আদালতে বিচার না পেয়ে, উপজেলা পরিষদে মামলা দেয়া হয়। উপজেলা পরিষদ থেকেও নোটিশ করা হলে, নোটিশে স্বাক্ষর না করে ফিরিয়ে দেয় নিলুফা।

অপর দিকে জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানিয়েছেন, মাদক বিক্রির নগদ টাকা আর স্থানীয় অপশক্তির ফলে মনখুশি মতো চলছে এবং হানা দিচ্ছে। নারী নির্যাতন ও ধর্ষন মামলার ভয়ে স্থানীয়রা নিলুফার সাথে পেরে ওঠেনা। গত ১৯/১২/১৮ইং কলাপাড়া সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭ জনকে আসামী করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং- সি আর ৯৪৮/১৮। আদালত হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজালাল মুন্সী কে তদন্ত প্রতিবেদনের দায়িত্ব দেন।

প্রধান শিক্ষকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ্য ২৪ নং জে এল হাজীপুর মৌজা, এস এ খতিয়ান নং ৪২৩, দাগ নং- ৫৮৩,৫৮৪,৫৮৫,১৮৮৮,১৯২১,১৯২৩, জমির পরিমান .৮৮ শতাংশ, খতিয়ান নং-৫১৫, দাগ নং- ৫৮০, ১৮৮৭,১৯২৪, জমির পরিমান .৬০ শতাংশ, মোট জমি ১.৪৮ একর জমি মামলার আসামী মোঃ জাহাঙ্গীর হাওলাদার ২৬/০৬/২০১৮ইং ৩৮১১ নং দলিল মূলে মালিক দখলকার নিযুক্ত আছে। মামলার বাদী মোসাঃ নিলুফা বেগম যথেষ্ট সময় নেয়া সত্বেও মামলায় বর্নিত দাবীকৃত সম্পত্তির কোন দলিল, পর্চা এমনকি লিখিত কোন কাগজ পত্র তার কাছে উপস্থাপন করতে পারে নাই। সুতরাং দাবীকৃত দাগ খতিয়ানে নিলুফার কোন সম্পত্তি নাই। কাজেই অত্র মামলা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রতিবেদনের স্মারক নং- হাঃমাঃবিঃ২০/১৯। ২৭/০৩/২০১৯ইং।

নিলুফার অপশক্তি খুবই জোরদার ফলে ৫ জুন পুনঃরায় উক্ত দাগ খতিয়ানের জমিতে চাষাবাদে বাঁধা প্রদান করে। নারী নির্যাতন ও ধর্ষন মামলার ভয়ে নিজের ক্রয়কৃত এবং দীর্ঘ বছর ধরে ভোগদখল কৃত জমিতে চাষা করতে না পারায় চড়ম কষ্টে জীবন যাপন করছে। আর বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে। যেন দেখার কেউ নেই।

এমতাবস্থায় সংশ্লীষ্ট ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংগঠনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

অভিযুক্ত নিলুফার সাথে যোগাযোগের জন্য সড়ে জমিনে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এবং প্রতিবেশীদের কাছে মুঠোফোন নম্বর চাইলে কেউ নম্বরটি দিতে পারেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here