বেতন,ভাতা,বোনাস হীনতা কর্মের নাম সাংবাদিকতা

121

সলংগা থানা প্রতিনিধি।।খুব সকালেই ফোন বেজে উঠলো,ধরতেই তথ্যকারীর কন্ঠস্বর ভেসে এলো। ফোনালাপের বিষয়বস্তুু সম্পর্কে আপাতত কিছু বলতে চাচ্ছি না। প্রতিনিয়ত কত মানুষ আমাদের ফোন করে বিভিন্ন তথ্য দেয়, যা যাচাই-বাছাই করেই তবেই না লিখতে হয়। বলতে পারেন এমনই একটি তথ্য যাচাইয়ের জন্যে প্রতাপ বাজারে যাওয়াটা বেশ জরুরী হয়ে পরলো, তাই পল্লীটিভির স্নেহস মতিন সরকারকে কল দিয়ে বললাম তুমি আসতে পারবে বাকি জবাবে সে নিজের একটা ব্যাস্ততা দেখিয়ে বললো আপনি সিএনজিতে উঠে হরিনচড়া নামেন,আমি অপেক্ষায় থাকবো। জবাবে ঠিক আছে বলে-সিরাজগঞ্জ রোড থেকে সিএনজিতে চেপে বসলাম। আমি বাদে যাত্রীর আসেনে ২ জন বসা, আর দুজন হলেই সিএনজি ছাড়বে। যেহেতু আমার খানিকটা তাড়া ছিল তাই অন্যদের চেয়ে আমার ছটফটানি কিঞ্চিৎ হলেও বেশি ছিল।দশ মিনিট পর এক সাথে তিনজন যাত্রী এলে সিএনজি চালক খুব বিনয়ের সাথেই বললো, ভাই আপনি পরের গাড়ীতে আসুন। আমি কি বলবো বুঝে উঠার আগেই হুড়মুড় করে ওরা গাড়ীতে উঠে বসলো। আর কি করা.. অজ্ঞতায় নামতে বাধ্য হলাম। পরের গাড়ীতে উঠার আগেই চালককে বললাম, “আমি কিন্তু আর নামবো না, চালক বললো, ঠিক আছে ভাই। বেশী সময় লাগলো না ৫ জন হয়ে গেল সিএনজিও ছাড়লো। সিএনজি-অটোরিক্সা মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ তাই নিচে লক্কর ঝক্কর মার্কা লোকাল রাস্তায় প্রায় কুড়ি মিনিটের যাত্র শেষে হরিনচড়া বাজারে পৌঁছালাম। গাড়ী থেকে নেমে ৫০ টাকার একটা নোট ভাড়া দেয়ার জন্যে সিএনজি চালককে দিলে সে আমায় ২০ টাকা ফেরত দিল,নরমালী ভাড়া ২০ সে রাখলো ৩০ টাকা কারন জিজ্ঞেস করলে বললো ভাই সামনে ঈদ-ঈদের বোনাস দিবেন না?
আর কিছুই বলতে পারলাম না। পাশেই অপেক্ষেয়মান পল্লীটিভির প্রতিনিধি মতিন সরকারক-কে মোটরসাইকেল নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে কোন কথা না বাড়িয়েই উঠে বললাম চলো…।
সারা দিন সংবাদ অনুসন্ধানে বিভিন্ন জায়গা দৌড়ানো একটা রুটিন ওর্য়াক হয়ে দাড়িয়েছে। এক ঘন্টা আগেও বলতে পারি না ১ ঘন্টা পরে কোথায় থাকবো। এটা নিয়ে নিজ পরিবার আত্নীয় স্বজন ও শুভানুদ্ধায়ীদের কাছে কারণে-অকারণে নানা কথা শুনতে হয় প্রায়শই।“আমার দুটো ছেলে আছে। আমি বেখেয়ালি বাবা। আমি আমার ছেলেদের ঠিক খেয়াল রাখি না, ইত্যাদী, ইত্যাদী”। আসলে কথাটি পুরো সত্যি না। যত রাতেই বাড়ী যাই না কেন সাধ্যমত সবার খোঁজ-খবর নেবার চেষ্টা করি। এছাড়াও পরিবারের অফিসার ইন চার্জ মানে বৌ তো আছেনই। ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন দিয়ে জানাবে আম্মা কি করলো,ছোট ভাইয়ের বৌ কি করলো,আব্বু কি করলো বললো,কোন আত্নীয় ফোন করেছে,কি বলেছে? ইত্যাদী,ইত্যাদি। এক কথায় বলা যেতে পারে,সারাদিনে গড়পর্তায় বৌ’র অভিযোগ আর প্যানপ্যানানী শুনতে শুনতে জীবন ঝালাপালা। হাতে কোন কাজ ছিলনা, রোডেই বসে ছিলাম,বড়দিন প্রচন্ড রোদ,গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন,এর মাঝে রোজা,খুব খারাপ লাগছিল,মনে হলো বাড়ীতে গিয়ে ঘন্টাখানেক ঘুমালে ভালো লাগবে,তাই সিনিয়র সহকর্মী শ্রদ্ধাভাজন শংকর কুমার রায় দাদাকে বললাম,দাদা শরিরটা ভালো লাগছে না! দাদা বললেন, তুমি বাড়ী যাও,ইফতার পরে এসো। মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক জবাব দিয়ে বাড়ীর রাস্তা ধরে হাটা ধরলাম,রোড থেকে হেঁটে আমার বাড়ীতে যেতে মিনিট পাঁচেক সময় লাগে।বাড়ীর খুব কাছে যেতেই বিবি সাহেব এর ফোন থেকে কল আসলো,ফোন ধরার সাথে সাথে ওপাশ থেকে বিবি বলছে,ছেলেদের চুল বড় হয়েছে-আফছার ভাই(আমার ছোট ভাই)কে টাকা দিয়ে ওদের চুল কাঁটাতে নিয়ে যেতে বলেছে কিন্তু সে যায়নি,আব্বাও (আমার বাবা) সে মসজিদে ইত্তেকাপে বসেছেন,আপনার তো আর ওদের দিকে খেয়াল নেই,ওদের চুল কাটাতে হবে, আমি বললাম ঠিক আছে ফোন রাখো-আমি আসছি। বাড়ীতে গিয়ে ঘুমানো আর হলো না,শুধু শার্ট খুলে একটা টি-সার্ট পরে বিবি সাহেবের অনুগত আদর্শবান স্বামী হিসেবে দু’ছেলের হাত ধরে নিয়ে আবার রোডের পথে চললাম,সারা রাস্তায় দু’ছেলের সাথে অনেক কথা বললাম,ওদের অবিরত প্রশ্নের জবাবে আমি আর কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না। যাই হোক,নুর এ আলফা হোটেলের সামনে গিয়ে ছোট ছেলে সাঈম (০৭) আমাকে বললো আব্বু টোকাঁই কি? আমি বললাম,যাদের বাবা-মা নেই,যারা অনাথ,যারা রাস্তায় থাকে তারাই টোকাই। জবাব শুনে বললো,আব্বু আমি টোকাই দেখবো আমাকে টোকাই দেখাও, আমি বললাম,এখানে তোমায় কিভাবে টোকাই দেখাবো,সে বললো, তুমি না বললে টোকাইরা রাস্তায় থাকে,এখানেও তো রাস্তা আছে,তাহলে আমাকে টোকাই দেখাও।মহা বিপদে পরলাম..!কৌশল করেই একটু রাগান্বিত স্বরে বললাম,আমরা চুল কাটাতে যাচ্ছি টোকাই দেখতে না। নাপিতের দু’জনকে দুটি চেয়ারে বসিয়ে অপেক্ষা করছি। মিনিট দশেক পর চুল কাটা হলো-নরসুন্দর বাবুকে বললাম তোমার কয় টাকা হয়েছে? উনি বললো দেন দাদা,আমি ১০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিলাম। নাপিত টাকাটা নিয়ে পকেটে রেখে দিল। আমি মনে মনে ভাবছি নরমালি ২ জনের ৬০ টাকা দেখি কি করে? নরসুন্দর বাবু এবার বলে ফেললেন ‘দাদা ঈদ বোনাস সহ নিয়ে নিলাম কি বলেন?
অনেক দিন পর আমার নানী এসেছেন বেড়াতে। নানীকে বাড়ীতে পেয়ে আমরা সবাই খুব খুশি। বিশেষ করে আমি। শুনেছি আমার যখন ৯ মাস বয়স তখন আমাকে আমার নানার বাড়ীতে রাখা হয়েছিল। নানা বাড়ীতে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত ছিলাম। তারপর আমার আব্বা-আম্মা আমাকে বাড়ীতে নিয়ে আসেন,ওখানে থাকলে নাকি আমার লেখাপড়া মোটেও হবে না। নানীর বাড়ীতে আমাকে কেউ ধমক দিতো না। আমি রাজার মতোই আদরে থাকতাম।শিশুবস্থায় আমি মামি ও খালার বুকের দুধ খেয়েছি। প্রথমে খালা মারা গেলেন, তারপর নানা,কিছুদিন পর মামী তারপর মামাতো ভাই এর মামা মারা গেল। খুব কম সময়ের মধ্যে একটি পরিবারে এতোগুলো মানুষের মৃত্যু,যার সব চেয়ে বেশী কষ্ট আমার নানী পেয়েছে। এখনও সে মাঝে মাঝে আমাদের বাড়ীতে আসেন কিছু দিন করে থাকেন। সকালেই বললো তার ঔষুধ লাগবে। জিজ্ঞেস করলাম কি ঔষধ,নাম কি? নানী বললেন, হাটিকুমরুলের খিতিস পালের ছেলের ঔষধ এর দোকানে গিয়ে চাইলেই দিবে। আর কি করা ইফতার শেষ করে রোড থেকে অটোরিক্সায় চরলাম,ব্যাস্ত সড়ক ভাঙ্গাচুড়া রাস্তা,আল্লাহ আল্লাহ করে গেলাম। নরমালী রোড থেকে হাটিকুমরুলের ভাড়া ৫ টাকা, আমি ২০ টাকার একটা নোট দিলে অটোরিক্সায় চালক আমায় ১০ টাকা ফেরৎ দিল। ৫ টাকা ভাড়া ১০ টাকা কেন নিচ্ছেন জানতে চাইলে অটোরিক্সা চালক বললেন, বাবা ঈদের বোনাস দিবেন না?
অনেক কথাই হল এবার মূল কথায় আসি-আমরা স্থানীয় এক অনুষ্ঠানে কথা প্রসংগে গত তিন দিনের তিনটি ঘটনা উপস্থিত গনমাধ্যম কর্মীদের মাঝে একটু আক্ষেপ করে বললাম,অনেকেই অনেক অভিজ্ঞতার কথা বললো, হঠাৎ আমাদের সবার সিনিয়ার সাংবাদিক শংকর কুমার রায় আমাকে উদ্দেশ্য করে জানতে চাইলেন, তুমি সাংবাদিকতা কত দিন, আমি সাদামাটা জবাব দিলাম এই ১২/১৩ বছর হবে,আমার কথা শুনে বললেন-আমি ৩৫ বছব ধরে এ পেশায় আছি-আমি ১ টাকাও বেতন পাইনি, ভাতা পাইনি,আর তুমি ১২/১৩ বছরে বোনাস চাইতেছো। শুন যাদের বেতন আছে, তাদের ভাতা আছে, আবার তাদেরই জন্যে বোনাস নির্ধারিত থাকবে। যাদের বেতন নাই, ভাতা নাই,তাদের বোনাস ও থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। সাংবাদিকরা কি পায়, কি খায়,তাদের ঈদ ক্যামনে হয়? তাদের ছেলে-মেয়েরা কিভাবে পড়া শুনা করে এটা ভাববার কেউ না থাকলেও কার কি হলো কে কি খেল, দেশের সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের অধিকারের কথা,আইনের কথা, সুশাসনের কথা,জঙ্গিবাদ, মাদক, দূণীতি-অনিয়মের কথা সাংবাদিকরাই বলবে।
এর মাঝে দেখলাম সোসাল মিডিয়ায় আরেক সিনিয়র সাংবাদিক শ্রদ্ধাভাজন উল­ল্লাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম সবুজ ভাই তো বোনাস আর পাঞ্জাবী বিষয়ে স্থানীয় এমপি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করে পোষ্ট দিয়েছেন।
কিন্তু কারোরই মন গলেনি।অবশেষে নিজেকে বেহায়া বলে পোষ্ট দিলেন তিনি।
ঈদকে সামনে রেখে যখন সর্বত্রই বোনাস চায়,বেতন, ভাতা,বোনাস না পেলেও সাংবাদিকরা বোনাস দেয়।প্রতিবেশী বন্ধুবান্ধ ও অন্য সদস্যরা যখন ঈদ বাজার করে তখন নিজ পরিবারে বিষয়টি মাঝে মাঝে যন্ত্রনা দেয়।এমন কর্ম বৈশম্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর শেখ হাসিনার নেক দৃষ্টি আশু প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here