মহিপুরে চাল নিয়ে চালবাজির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস।

46

আমাদের কুয়াকাটা ডেস্ক।।
মহিপুরথানার সদর ইউনিয়ানের মৎস্য বন্দরে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের ভিজিএফ চাল বিতরনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মৃতব্যক্তি ও প্রবাসীর নামে চাল বিতরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৫ মে) মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দের ৩০ কেজি করে চার মাসের চাল বিতরণ করা হয়। চাল বিতরণ কালে ১২০ কেজির পরিবর্তে ১০৫ কেজি চাল জেলেদের দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জেলেরা।

এতে প্রকৃত জেলেরা চাল না পেয়ে ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া জেলেদের চালের তালিকায় রয়েছে মৃত ব্যক্তি, প্রবাসে থাকা ব্যক্তি, হোন্ডাচালক, ভ্যান চালক, দোকানদার, বিত্তশালী ব্যাক্তিদের নাম। যে সকল জেলেরা জীবনবাজি রেখে বঙ্গোপসাগরে রুপালী ইলিশ আহরণ করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখছে, তাদের নাম নেই জেলে তালিকায়। চালের স্লিপ পেলেও চাল পায়নি অনেকে।

ভোটের রাজনীতির গ্যাড়াকলে স্ব স্ব ইউপি সদস্যদের পছন্দের ভোটারেরা ছাড়া বিরোধীরা পাচ্ছেনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ বরাদ্দের জেলে চাল। মাপে কম দেওয়ার রেওয়াজ তো আছেই। বঞ্চিত জেলেদের বিক্ষোভে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থানা পুলিশ দিয়ে ৯০/৯৫ কেজি চাল বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।জনপ্রতিনিধিদের চাল চুরির নজির বিহীন ঘটনায় শেখ হাসিনা সরকারের সকল উন্নয়ন সাফল্য ভেস্তে যেতে বসেছে মহিপুর ইউনিয়নে। একই ব্যক্তির নামে দুই বার চাল বিতরণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউনয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মোসলেম বিশ্বাসের নাম জেলে তালিকায় দুইবার রয়েছে। ৯৫৮ জন কার্ডধারী অনুমোদিত জেলেদের মধ্যে ৬৯৬ জন তালিকাভূক্ত জেলে চাল পেয়েছেন। এদিকে মহিপুর ইউনিয়নের জেলেদের চাল বিতরণ তালিকার ৮৮ নং ক্রমিকে লাল মিয়ার পুত্র মৃত বাবুল, ১২৩ নং ক্রমিকের রমজান আলি হাওলাদারের পুত্র মৃত আবুল কাশেম, ১৪৮ নং ক্রমিকে মালেক মোল্লার পুত্র মৃত মাহবুব মোল্লার নামে চাল উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ছত্তার খাঁনের পুত্র মালয়েশিয়া প্রবাসী ইউসুফ খাঁন, ফয়জর আলীর পুত্র হুন্ডা চালক আব্দুল সালাম, হোসেন আলী জমাদ্দারের পুত্র রবিউল জমাদ্দারও প্রবাসী হয়ে দেশে অনুপস্থিত থেকে জেলেদের নামের চাল উত্তোলন করেন। অথচ প্রকৃত জেলেদের চালের তালিকায় নাম নেই।

ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নজিবপুর গ্রামের জেলে আব্দুল হাই হাওলাদার জানায়, আমি চার মাসের চাল বাবদ ১২০ কেজি পাওয়া কথা থাকলেও প্রকৃত চাল পেয়েছি সাড়ে তিন বস্তা অর্থাৎ ১০৫ কেজির মত।

মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল সালাম আকন বলেন, এ তালিকায় আমার কোন হাত নেই। ২০১৪ সালে  প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকরা এ তালিকা তৈরী করেন। একটি পক্ষ পুরাতন তালিকা বাদ দিয়ে নতুন তালিকা তৈরী করতে বললে আমি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করি, কিন্তু তিনি আমাকে চলমান তালিকা অনুসারে চাল বিতরণের নির্দেশ দেন।

এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুপ দাশ বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here