কলাপাড়ায় দুর্নীতির কারনে সরকারী ভিজিডি চাল পাচ্ছেনা ৬ টি ইউনিয়ন

86

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া প্রতিনিধি ঃ

কলাপাড়ায় ছয়টি ইউনিয়নে প্রতি একজন দুঃস্থ নারী প্রধান পরিবারের সদস্যদের জীবন-জীবীকার উন্নয়নে সরকার (ভিজিডির) ৩০ কেজি করে চাল প্রতি মাসে বরাদ্দ রেখেছেন। আবার অনেকে ঘুর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দুঃস্থ নারী প্রধান পরিবারের সদস্যদের জীবিকার যা এবছর জানুয়ারি মাস থেকে পাওয়ার কথা। সরকারের দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচির আওতায় উপকার ভোগী অন্তত ১৯০৮ পরিবার ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এক ছাটাক চালও পায়নি। ২০১৯-২০২০ সালের দুই বছরের নতুন এ চক্রের ছয়টি ইউনিয়নের এসব দুঃস্থ মহিলার বরাদ্দকৃত চাল খাদ্যগুদামে পড়ে আছে। চার মাস পেরিয়ে গেলেও ছয়টি ইউনিয়নের একজন দুঃস্থ পরিবারের ভাগ্যে এক ছটাক চালও জোটেনি। শুধুমাত্র খামখেয়ালীপনার কারণে দরিদ্র এসব পরিবারে সরকারের খাদ্য সহায়তা জুটছেনা।

চাকামইয়া, টিয়াখালী, মিঠাগঞ্জ, নীলগঞ্জ, মহীপুর ও লতাচাপলী এ ছয় ইউনিয়নের সুবিধোভোগী ১৯০৮ দুঃস্থ পরিবার এখন চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এসময় চার মাসের ১২০ কেজি করে চাল পেলে পরিবারে খাদ্য সঙ্কট কেটে যেত। এ ছয় ইউনিয়ন ছাড়াও বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩৪৫ পরিবার ফেব্রুয়ারি থেকে তিন মাস ধরে ভিজিডির এ চাল পাচ্ছেন না। অন্যদিকে ডালবুগঞ্জ, চম্পাপুর, লালুয়া ইউনিয়নের দুঃস্থ পরিবারগুলো চাল বিতরন চলছে বলে জানা গেছে। গত এপ্রিল মাসের চাল পায়নি ধানখালী ও ধুলাসার ইউনিয়ন।

খাদ্য গুদাম সুত্রে জানা গেছে, ভিজিডির ২৭৬ মেট্রিকটন ৬৬০ কেজি চাল এখন গুদামে পড়ে আছে। যা সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানগণ উত্তোলন করেননি। খাদ্য অফিস থেকে গোডাউনে ছাড়পত্র দেয়া থাকলেও এ চাল উত্তোলন না করায় সরকারের দুঃস্থ মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা পৌছেনি।

বরাদ্ধকৃত ইউপি চেয়ারম্যানগন জানান, নতুন চক্রের তালিকা তৈরি করা নিয়ে একটু জটিলতার কারণে দেরি হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার জানান, নতুন চক্রের তালিকা তৈরি এবং অনলাইনে আপডেট করতে একটু সমস্যা হয়েছে তবে চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে চাল বিতরণ শুরু করার জন্য।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানান, চাল বিতরনে যথাযথ ব্যবস্থা, সরকারী বিধিমালা ও নিয়মাবলী গ্রহণ করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here