পল্লী বিদ্যুতের নামে অপপ্রচার চালিয়ে লক্ষাধীক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইলেক্ট্রিশিয়ান জাকির ॥ ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রহকরা

302

মোঃ মনিরুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার ঃ

কলাপাড়া আপন নিউস নামে একটি অনলাইনে গত ১৭ এপ্রিল ‘পল্লী বিদ্যুৎ যেন দালালের আস্থানা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করা। প্রতিবেদনে ১৩ জন ইলিক্ট্রিশিয়ানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কলাপাড়া জোন এরিয়ার তদন্তে যাওয়া হয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মোঃ শাহিন ও আনিসসহ আরো ১১ জনের কারো বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর কোন অভিযোগ বা পল্লী বিদ্যুতের দালালীর কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন তদন্তে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুত অনুমোদিত ইলিক্ট্রিশিয়ান জাকিরের বিরুদ্ধে দালালীসহ ট্র্যানেসমিটার ও মিটার দেয়ার নামে ব্যাপক অভিযোগ উঠে আসে। এর মধ্যে বরগুনা জেলা পরিষদের ১০ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আবুল কালাম সরদার জানান, দ্রুত ট্র্যানেসমিটার দেয়ার নামে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে জাকির। কিন্তু কথা রাখেনি ওই ইলেক্ট্রিশিয়ান এবং ফেরৎ দেয়নি গ্রহণ করা টাকা গুলো। তালতলী এলাকার দক্ষিন আমতলী গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মিটার দেয়ার নামে ১ হাজার ৪ শত টাকা নিয়েছে। দীর্ঘ ১ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও মিটার পায়নি তিনি। কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রাম থেকে ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর গত ১৫ এপ্রিল বিকাল ৫ টায় এলাকাবাসী জাকিরকে গনধোলাইয়ের পর ৭ নং লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান’র কাছে হস্তান্তর করে।

কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়া এলাকার সোহরাব মৃধা, জসিম, নুরছায়েদসহ ২২ পরিবার মিটার না পেয়ে চড়ম ভোগান্তিতে। আমতলী পৌরসভার প্যানেল মেয়র জি এম মুসাও রক্ষা পায় ইলেক্ট্রিশিয়ান জাকিরের হাত থেকে। কুয়াকাটার তাঁর বাসার মিটারের জন্য টাকা নিয়ে ঘুরাচ্ছে তাও দেড় বছর। কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অনুমোদিত ইলিক্ট্রিশিয়ান পদে যোগদান করাবে মর্মে ৫ হাজার টাকা নেয় কুয়াকাটার সোহেলের কাছ থেকে। সোহেল আরো জানায়, তার কুয়াকাটাস্ত ইলিক্ট্রিক দোকান থেকে ৬ হাজার টাকার তার-ভাল্প বাকী নিয়ে ঘুরাচ্ছে বছরকে বছর। কুয়াকাটার সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব মেম্বারের একটি মিটারে ১৫ হাজার টাকা বিল হয়েছে। মিটার বিলের বিষয়টি জাকিরের সাথে আলাপ করলে বিল কমিয়ে দেয়ার কথা বলে মেম্বরের সহধর্মীনি মোসাঃ ফাতিমা বেগমের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫শত টাকা নিয়েছে।

কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন ইলিক্ট্রিশিয়ান জাকিরের কম্পিউটার দোকান রয়েছে, এবং পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীদের সাথে বিদ্যুৎ সংযোগের বিভিন্ন স্থানে কাজ করার ফলে কোন গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিসে গেলেই তার পিছু নিয়ে অসৎ পরামর্শ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে ওই অভিযুক্ত ইলিক্ট্রিশিয়ান জাকিরের সাথে মুঠো ফোনে (০১৭২৫৬৭৯৯৭৯) নম্বরে একাধীকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি রিসিভ করেনি। অপর দিকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস যে দালালের আস্থানা এমন প্রতিবেদনের সাথে নির্দোষ ১৩জন ইলিক্ট্রিশিয়ানের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই মানহানী মুলক ভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় আপন নিউস এর গনমাধ্যম কর্মী মোঃ এস এম আলমগীরের নামে মানহানী মুলক মামলার প্রস্থুতি নিচ্ছে ওই নির্দোষ ইলিক্ট্রিশিয়ানরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here