মোঃ হাবিবুল্লাহ খান রাব্বী
মহিপুরে গর্ভবতীদের নামের তালিকায় উৎকোচ না দেয়ায় মহিলা মেম্বর কর্তৃক দুই নারীকে জুতাপেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, মহিপুর থানার ১১নং ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ৪,৫,ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর শাহানারা বেগম শানু। গত ২১ মার্চ বিকাল ৫টার দিকে ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের কন্যা আয়শা বেগম ও মাহফুজাকে মারধর করে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ২৬ মার্চ সরে জমিনে গেলে, গর্ভবতীদের সরকারী সহায়তা নামের তালিকায় ১৭জনের নাম দেয়। নাম প্রতি ২৫ শত টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করে মহিলা মেম্বর। আয়শা বেগম নামের এক গর্ভবতী মা ৭শত টাকা দেয়, এতে মহিলা ইউপি সদস্যা খুবই ক্ষিপ্ত হয় ওই গর্ভবতী মায়ের প্রতি। মেম্বরের উৎকোচের বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান জানতে পেরে হুশীয়ারী দেয় মেম্বরকে। উৎকোচের বিষয়টি আয়শা বেগমই হয়তো চেয়ারম্যানকে জানিয়েছে এমন সন্দেহ মেম্বরের। ফলে মেম্বরের জমিতে আয়শা বেগমের পিতার গরু বাধাঁর অপরাধে দুই বোনকে মারধর করে ওই মহিলা মেম্বর।
অভিযুক্ত মহিলা মেম্বরের সাথে মুঠো ফোনে একাধীকবার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান আঃ ছালাম সিকদার বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত মারধরের বিষয়ে মেম্বরের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্থুতিও নিয়ে ছিলো ভুক্তভোগীরা। কিন্তু ম্বেরের ভাই নান্নু সিকদার ও তিঁনি ফয়সালা করে দিবেন বলে তাদেরকে ফেরানো হয়েছে। কিন্তু রাত দেড়টার দিকে মেম্বরের কলেজ পড়–য়া ছেলে ইমরাণ আজিজ মোল্লার ছেলে মেহেদি হাচানসহ ১০/১৫জন যুবকরা ফজলুর রহমানের ঘরে পুনঃরায় হামলার করেছে এ ঘটনাটি আরো নিন্দনীয়।
ফজলুর রহমানের স্ত্রী নাছিমা বেগম অঝড় ধারায় কেঁদে কেঁদে বলেন, ছেলের আশায় একে একে তার ৯টি কন্যা সন্তান। ২১ মার্চের গভীর রাতে ১০/১৫জন যুবকরা যে ভাবে ঘরে হামলা করে এবং ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করে। পিছনের দরজা খুলে পালাতে চাইলেও পালাতে পারেনি তিনি। বর্তমানে জনবলহীন দরিদ্র পরিবারে ৯টি কন্যা সন্তান নিয়ে প্রান ও ইজ্জত নিয়ে বেঁচে থাকা শংকাজনক। প্রভাবশালী ওই মেম্বরের পরিবারেরা যে কোন সময় ছোরা মেরে মেরে ফেলতে পারে তাদের যে কেউকে। দেশের সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনের সু-দৃষ্টি কামনা করছে ৯ কন্যার মাতা নাছিমা বেগম।
মারধরের ৫ দিন পর উল্টো মেম্বরকে মারধর করা হয়েছে মর্মে থানায় মামলার প্রস্থুতি চলছে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আরো বলেন, মহিলা মেম্বরকে কেউ মারধর করেনি, বহু বিশ্বস্ত প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে বলেছেন। এবং তিনি ঘটনাটি থানায়ও অবহিত করেছেন, নিরিহ জনগন যাতে হয়রানী না হয়।
এ ব্যাপারে মহিপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, মহিলা মেম্বর কর্তৃক অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে আমলে নেয়া হয়নি এখনও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here