কুয়াকাটায় রাখাইনদের আদি নিদর্শণ দখলের চেষ্টা করছে প্রভাবশালী চক্র

233

মাহাতাব হাওলাদার, মহিপুর।।
কুয়াকাটায় রাখাইনদের প্রতœতত্বের নিদর্শণ বেদখল হয়ে যাচ্ছে। প্রায় তিনশত বছরের পুরোনো রাখাইনদের ঠাকুর বাড়ি,দেবালয়,মঠ এবং ধর্মীয় পুরাকীর্তি দখল করে নিচ্ছে স্থানীয় শহিদুল ইসলামসহ একটি চক্র। ঐ চক্রটি নিজেদের জমি দাবী করে রাখাইনদের ঐতিহাসিক নিদর্শনটি মুছে ফেলতে চেষ্টা করছে। জমির আকার পরিবর্তন করা এবং জমিতে থাকা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। জেলেদের নৌকা তৈরী করা হচ্ছে সেখানে বসে। যার ফলে রাখাইনদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে ঐ চক্রটি। তবুও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের।
কুয়াকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় তিনশত বছরের পুরোনো প্রতœতাত্বিক নিদর্শনটি আদিবাসী রাখাইনদের ইতিহাস ঐতিহ্যের স্বাক্ষি হয়ে আছে। প্রতœতত্ব বিভাগ রাখাইনদের এই পুরাকৃর্তি কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন। এটি সংরক্ষনের মাধ্যমে আদিবাসী রাখাইনদের ইতিহাস ঐতিহ্য পর্যটকসহ দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য সুপারিশও করা হয়েছে প্রতœতত্ব অধিদপ্তরে।
রাখাইনদের ঐতিহাসিক নিদর্শন স্থলের জায়গা দখল এবং গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগে নয়াপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরের ধর্মযাজক উপেইয়া চন্দ্র মহাথের গত ১৯ অক্টোবর বাদি হয়ে শহিদুল ইসলামসহ ৪জনকে আসামী করে মহিপুর থানায় একটি মামলা করেন। যার মামলা নং ২৩/১৮। প্রকাশ্যে দিবালোকে গাছ কেটে নিয়ে গেলেও পুলিশ এটিকে চুরির মামলা হিসেবে রজু করেছে। যার ফলে ১নং আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও আদালত থেকে সহজেই জামিনে বের হয়ে আসে।

রাখাইনদের ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশেই শহিদুল ইসলাম গংদের বাড়ি। ঐ বাড়িটিও রাখাইনদের বলে দাবি করছেন স্থানীয় রাখাইন নেতৃবৃন্দ।
রাখাইনদের ঐতিহাসিক নিদর্শণ বিক্রি বা হস্তান্তরের বিধান না থাকলেও ত্রুটিপুর্ণ কাগজ দেখিয়ে বাড়িটি দীর্ঘ বছর ধরে দখলে নিয়ে ভোগ করছে। রাখাইনদের দাবি ঐ জমি কেউ বিক্রি বা হস্তান্তর করে নাই।

রাখাইন ধর্মযাজক উপেইয়া চন্দ্র মহাথের এ প্রতিনিধিকে জানান, এখানে ঠাকুর বাড়ি ছিল। বন্যা ও জলোচ্ছাসে ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর ঠাকুর বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এখানে ঠাকুর বাড়ি এবং দেবালয়ের সম্পত্তি রয়েছে। রয়েছে আদি নিদর্শণ। যা সংরক্ষনের জন্য প্রতœতত্ব বিভাগ উদ্যোগ নিয়েছে। ঐ ধর্মযাজক আরো জানান,৬৫৯ নং খতিয়ানের ৫৩৩৪ নং দাগে ৬৪ শতক জমি ঠাকুর বাড়ির সম্পত্তি এবং ৫৩৩৫/৫৪৯৩ দাগে ৩৫ শতাংশ সম্পত্তি দেবালয়ের নামে। কিন্তু ভূমি খেকো শহিদুল ইসলাম গংরা জাল জালিয়াতি কাগজ সৃষ্টি করে নিজেদের জমি বলে এক একর সম্পতিতে বাড়িঘর নির্মাণ এবং ভোগদখল করে আসছে। বাড়ির সামনেই মহাসড়ক সংলগ্ন মঠ রয়েছে। সেই মঠটি এখন দখল করার চেষ্টা করছে। গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এরা খুবই প্রভাবশালী কারো বাধা শুনছেনা। তাই তিনি ঠাকুর বাড়ি ও দেবালয়ের সম্পত্তি ও আদি নিদর্শনটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন,গাছ কাটার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। একজন আসামীকে গ্রেফতার করে কোর্টে চালান করা হয়েছে। তদন্ত পুর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here