শিক্ষক দম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা ॥ আসামীরা প্রকাশ্যে ॥

347

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,কলাপাড়া ॥

কুয়াকাটা পৌর এলাকায় প্রকাশ্যে দিনের বেলায় শিক্ষক দম্পত্তির ওপর হামলা ঘর দখলের চেষ্টা ভাঙ্গচুর লুটপাট করেছে মুকুল বাহিনী। গুরুতর আহত হন কলেজ শিক্ষক শাহীন ও তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা শাহিনুর। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় মামলা হলেও গ্রেফতার হয়নি কেউ। আসামী গ্রেফতার ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষক শাহিনের পরিবার। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহীনের বড় ভাই নুরুল ইসলাম মিলন।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ অক্টোবর বিকাল ৪টা থেকে প্রায় আধা ঘন্টা যাবৎ কুয়াকটার ৪নং ওয়ার্ডের কলেজ শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলাম শাহীনের লেকভিউ বাড়ীতে এইচ এম আব্দুর রহিম মুকুল বাহিনী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। চেষ্টা করা হয় ঘর দখলের। এ ঘটনায় ওই রাতে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। অথচ আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে, কেউ গ্রেফতার হয়নি। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ বার হত্যার জন্য শাহীনের ওপর হামলা চালায়।

মিয়া হোল্ডিং লিমিটেডের নামে ঢাকার একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর মালিক এইচ এম আব্দুর রহিম মুকুল সাথে শহীদুল ইসলাম শাহীনের সাথে জমি জমা নিয়ে একাধিক রেজিষ্ট্রি চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ শতাংশ জমি মুকুলের নামে বিল্ডিংয়ের প্লান পাশ করা হয় এবং ৩য় তলা পর্যন্ত শহীদুল ইসলাম শাহীন তার নিজ খরচে ভবন নির্মানের মূল্য র্নিধারনও করা হয়।

শহীদুল ইসলাম শাহীনের সাথে মিয়া হোল্ডিং লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী এইচ এম আব্দুর রহিম মুকুলের কোম্পানির নামে আম-মোক্তারনামা প্রদান করেন জমির মূল ভবনের মূল্য র্নিধারন করে যে মূল্য হবে সম-পরিমান মূল্য দিয়ে পূর্নাঙ্গ ছয় তলা ভবন সম্পন্ন করে ফ্লাট বিক্রি করে সমপরমান অর্থ ভাগ করে নিবে বলে খেপুপাড়া সাব রেজেষ্ট্রি অফিসে মিয়া হোল্ডিং লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী এইচ, এম আবদুল রহিম মুকুল তার স্ত্রীর নামে আম-মোক্তার প্রদান করা হয়।

২০১১ সালে দলিলের পর থেকে মুকুল শাহীনের সাথে আকষ্মিক যোগাযোগ বিছিন্ন করে দেয়। ২০১২ সালে শাহীনের অসমাপ্ত বিল্ডিংয়ের কাজ সমাপ্ত করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা অফিস ও আবাসিক বাসা ভাড়া দিয়ে নিয়মিত রিসিভের মাধ্যেমে ওই ভবনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে ২০১৬ সালে এসে শাহীনের বাড়ীতে হামলা চালায়। এরকম একাধিক বার হামলা করে ব্যর্থ হয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়। শালিস বৈঠকে তার নিজ মুখে প্রতারনার কথা স¦ীকার করে নতুন করে শাহীনের সাথে পুনরায় চুক্তি করে ব্যবসা শুরু করতে চায়।

এরপর শাহীন আদালতে সমস্ত চুক্তি ও দলিল বাতিলের জন্য দুইটি মামলা যার নং-৮৪/১৬ ও ৯৬/১৬ দায়ের করলে আদালত থেকে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও ডিক্রী পায় শাহীন। আদালত শাহীনের অনুকুলে থাকায় এইচ এম আাব্দুর রহিম মুকুল মামলায় হেরে যাবার আশঙ্কায় গত ৫অক্টোবর শুক্রবার বিকাল ৪ টার সময় একদল সন্ত্রাসী নিয়ে শহিদুল ইসলাম শাহিনের বাড়ী হামলা চালায়। হামলার সময় বাসার টিভি, ফ্রিজ, সিসি ক্যামেরা ও ঘরের মধ্যে থাকা অন্যান্য জিনিসপত্র ভাংচুর করে এবং আলমিরা ভেঙ্গে বিভিন্ন চুক্তিপত্র, দলিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়ে যায়। এসময় তার সহধর্মিনী উপরে অতর্কিত হামলা চালালে শাহীনের বড় ভাই মিলন বাঁচাতে আসলে তার উপরেও শারীরিক অত্যাচার করে। বর্তমানে শাহীন উন্নত চিকিৎস্যার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। শাহীনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার উপর এমন বারবার আক্রমন করে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন।

বাড়ীতে হামলার পর অপরাধ ধামাচাঁপা দিতে নাটকীয়তা তৈরি করে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় মুকুল কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি দেখায়। ভর্তি নং-১১৭৯৯/৩৪, তারিখ ০৫/১০/২০১৮ইং। কিন্তু অনুমান ৩০ মিনিট পর আর তাকে মেডিকেলে পাওয়া যায়নি। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর মেডিকেল অফিসার ডা. জুনায়েত খান লেলিন জানান, এইচ এম আব্দুর রহিম মুকুল মারামারির ঘটনার কথা বলে ভর্তি হয়। কোনো কিছু না বলেই তার মত করে আবার চলে যায়। পরে হাসপাতালের শয্যায় তাকে পাওয়া যায় নাই।

শাহীনের স্ত্রী মোসা. শাহিনুর আক্তার কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি বিদ্যালয়ে পাঠদানে যাওয়া আসা করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মাননু, সহ সভাপতি জীবন কুমার মন্ডল, সাবেক সভাপতি সামসুল আলমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্্র মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মপিুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা আসামীদের গ্রেফতারের জন্য কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম আসামীরা অত্র জেলায় নাই। অন্য কোথাও আত্ম গোপন করে আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here