বাংলাদেশ-চায়না যৌথভাবে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলছে

280

বিশ্বাস মিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া ।।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ধানখালী, লোন্দা এবং নিশানবাড়িয়া মৌজায় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্ট গড়ে তোলার কাজ শুরু হযেছে। বাংলাদেশ-চায়নার মালিকানাধীন আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনার পাওয়ার লিমিটেড (আরএনপিএল) এর উদ্যোক্তা। নতুন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে শুক্রবার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনার পাওয়ার লিমিটেডের (আরএনপিএল) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল করীম, নরিনকো ইন্টারন্যাশনালের কনসালটেন্ট তালুকদার রুমী এবং আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনার পাওয়ার লিমিটেডের (আরএনপিএল) উপ-ব্যবস্থাপক মো. খায়রুল ইসলাম।
এ সময় সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল করীম বলেন, ধানখালী ইউনিয়নে এ জন্য ৯১৫ একর ভূমি অধিগ্রহন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ১৮৪ একর জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। আরও ১০০ একর জমি বুঝিয়ে দেয়ার প্রস্ততি চলছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আধুনিক আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। এ জন্য ২৫ একর জমি নেয়া হয়েছে। এ জমিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঁচ কক্ষের বাড়ি নির্মাণ করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে বারান্দা, রান্না ঘর। প্রত্যেকটি বাড়ি নির্মাণে ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। ৩৫০ জন ক্ষতিগ্রস্তের প্রত্যেককে একটি করে এ বাড়ি দেয়া হবে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসের মধ্যে বাড়িগুলো হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া এ প্রকল্পে কমিউিনিটি সেন্টার, মসজিদ, স্কুল, খেলার মাঠ থাকবে। মানুষজনের চলাচলের জন্য ৩০ ফুট এবং ১২ ফুট প্রশস্ত সড়ক তৈরি করে দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রির আয় থেকে তিন পয়সা করে রাখা হবে। প্রকল্প এলাকার উন্নয়নের জন্য এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। এখানে যে কয়লাটা ব্যবহার করা হবে, তার ছাই শোধন হওয়ার পর একটা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে। এ ছাই সিমেন্ট কারখানার মালিকরা সিমেন্ট তৈরির জন্য কিনে নিয়ে যাবেন। তা ছাড়া ছাই যাতে বাইরে না যায়, সেজন্য নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এর পাশে ১৩২০ মেগাওয়াটের আরও একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন লিমিটেডের কনসালটেন্ট তালুকদার রুমি বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিন আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানী করা হবে। ২০২২ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় সংযোগ লাইনে সরবরাহ করা হবে। এটি বাংলাদেশ এবং চায়না সরকারের যৌথ মালিকানাধীন একটি রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি এ কেন্দ্রটিতে ব্যবহার করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here